জাল টাকাসহ চার কারবারি গ্রেফতার

70

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি এক বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল ‘টাকশাল’। তবে সেখানে আসল নয়, তৈরি হতো হাজার হাজার জাল টাকা। আসল ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো জাল ১ লাখ টাকা। জাল টাকা তৈরির চারজন কারিগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় গ্রেফতারকৃতদের থেকে ৮ লাখ ১২ হাজার জাল টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশ বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাই আদালত থেকে রিমান্ড নিয়ে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গ্রেফতারের পরে গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার সামাউন আলীর ছেলে জনি হাসান (২৪), একই এলাকার মাসুদ রানার ছেলে জনি আলী (২৬), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ইনসান মিয়া (২২) ও কাটাখালি থানার হরিয়ান পশ্চিমপাড়া এলাকার রেজাউল করিম রেজুর ছেলে সুমন রানা (২৭)।
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আবু আহাম্মদ আল-মামুন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কাটাখালি থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় ওই এলাকার সাব-ওয়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে প্রথমে তিন যুবককে আটক করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৮১২টি এক হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কাটাখালি থানার হরিয়ান পশ্চিমপাড়া এলাকায় সুমন রানার দোতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরো জানান, এসময় সুমনের বাড়ির নিচতলা থেকে একটি ল্যাপটপ, কালার প্রিন্টার ও জাল টাকা তৈরির কাগজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সুমনকেও আটক করা হয়। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
আটকরা ওই বাড়িতেই জাল টাকা তৈরি করে আসছিল। জাল টাকা তৈরির পর সেগুলো বাজারে ছাড়ার কথাও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। কেবল তাই নয়, এ সংঘবদ্ধ চক্রটি ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক লাখ জাল টাকা বিক্রি করতো। আর এ জাল টাকায় মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করা হতো বলেও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাই আদালতে হাজির করে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। মামলা দিয়ে দুপুরেই তাদের কাটাখালি থানায় সোপর্দ করা হয় বলেও জানান পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।

SHARE