দ্বিতীয় দিনে রেলওয়ের এক হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

83

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযানে দ্বিতীয় দিনে একশোটির মতো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুই হাজারের অধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলো। গতকাল বুধবার সকালে হড়গ্রাম এলাকার কোর্ট স্টেশন মোড় থেকে সিটি বাইপাস মোড় পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় দুপুরে অবৈধ দখলদার ও বস্তিবাসিরা পুনর্বাসনের দাবিতে সড়ক অবরোধ রাখে। এতে প্রায় আধাঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজশাহীতে উচ্ছেদ অভিযানে নামে পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনে নগরের কাশিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে শুরু করে হড়গ্রাম পর্যন্ত প্রায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। দ্বিতীয় দিন বুধবার সকালে হড়গ্রাম এলাকার কোর্ট স্টেশন মোড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। শেষ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিটি বাইপাস মোড়ে এসে। এত প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তিতে লিজের মেয়াদ শেষ হলে সেগুলোও ভাঙা হবে। নগরের রেলগেট থেকে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকা পর্যন্ত লাইনের পাশে কোন স্থাপনা রাখা হবে না। দুইদিনে দুই হাজারের বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সম্পদ কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় রেলওয়ের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানের প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তি জারি করে সবাইকে জানিয়ে দেয় তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার জন্য। রেলের বৃহত্তর স্বার্থে সম্পদ উদ্ধার ও নিরাপত্তার জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। অনেকেই তিন দশকের বেশি সময় ধরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে রেলের জমি দখল করে ছিল।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র নয়টি স্থাপনা আপাতত ভাঙা হচ্ছে না। এর মধ্যে একটি স্থাপনার উপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাকি আটটি স্থাপনা রেলের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। ১৮ সালেও তারা লিজ নবায়ন করেছেন। তাদের লিজের মেয়াদ এখনো রয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে সেগুলোও ভাঙা পড়বে বলে জানান তিনি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. ইউনুছ আলী বলেন, সব অবৈধ স্থাপনাই ক্রমান্বয়ে উচ্ছেদ করা হবে। প্রথম মেয়াদের অভিযান শেষ। দ্বিতীয় মেয়াদের অভিযান আগামি সপ্তাহে বা কোনো উপযুক্ত সময়ে শুরু করা হবে। তবে যারা রেলের কাছ থেকে লিজ নিয়ে স্থাপনা করেছেন সেগুলো আপাতত ভাঙা হচ্ছে না।

SHARE