নগরীতে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান

158

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এই অভিযান শুরু হয়। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকার চারখুটা মোড় থেকে রেললাইনের দুই ধারে অবস্থিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর পর্যায়ক্রমে নগরীর রেলগেট পর্যন্ত এ অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। চারখুটা মোড় এলাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা বুলড্রোজার ও লেবারের সহযোগীতায় ভেঙে দেয়া হয়। তবে স্থানীয় এক বাড়ির মালিকের নির্মিত দুইতলা বাড়িটি অভিযানের সময় রেল কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র না দেখেই চতুরদিক থেকে ভেঙে ফেলেছে। এদিকে সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর রেলের জাগায় বসবাব বা ব্যবসা পরিচালনা করে আসা অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুনসুর আলী আরিফ জানান, রেল কর্তৃপক্ষত তাদের জাগায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ সহায়তা করছে। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বস্তিতে বসবাসকারীরা রেল কর্তৃপক্ষকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াহিয়া হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৯ সালে ক্রয়করা প্রায় সাড়ে চার কাঠার ওপর নির্মিত দুইতলা দালান বাড়িটি মঙ্গলবার অভিযানের সময় চতুরদিক থেকে ভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। চারতলা ফাউন্ডেশনের এই বাড়িটি নির্মাণে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়া রয়েছে। এসময় আমি অভিযান পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করি জমির প্রয়োজনীয় সকল কাগজ দেখাতে; তবে তারা আমার কোন কথা না শুনেই বাড়িটি ভাঙতে শুরু করে। এদিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোন অনিয়ম করা হচ্ছে না উল্লেখ করে উচ্ছেদ অভিযান তত্ত্ববধানকারী ও বাংলাদেশ রেলের জিও পাকশী মো: ইউনুস আলী বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা রেলের জাগায় অবৈধ স্থাপনা সমূহে উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। এসময় রেলের প্রায় ৬ একর জায়গার ওপর ৫০০ থেকে ৬০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানের প্রায় সপ্তাহখানেক আগে রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলকায় মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে সকলকে অভিযানের বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছিল। অভিযানে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেল শাখার প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নন, ডিইও হেড কোয়ার্টার প্রমুখ। পশ্চিমাঞ্চল রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের প্রধান আব্দুল মান্নান বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার চারখুটার মোড় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুকরা হয়েছে। দুই দিন এই উচ্ছেদ অভিযান চলার কথা রয়েছে। তবে প্রয়োজনে এই উচ্ছেদ অভিযানের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১২ মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি মাইকিং করে রেলওয়ের জমিতে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ও দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদেও জানান হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা রেলের জায়াাগা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য কাজ করে আসছেন তাদেরকে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে জায়াগা খালি করে দিতে হবে। অন্যথায় ২০ মার্চ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলদারদের সমস্থ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে ও সংশ্লিস্ট দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানান হয়, নির্ধারিত সময়ের পর অবৈধ স্থাপনা সরাতে দখলদারদেও কাছ থেকে এর সমস্ত খরচ আদায় করা হবে। এছাড়া যাদের লাইসেন্স ফি দুই বছরের অধিক বকেয়া রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদসহ চলমান নীতিমালার আলোকে আইনুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উচ্ছেদ অভিযানে থাকা রাজশাহী জিআরপি থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) সাইদ বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে রেল লাইনের দুই ধারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর রেললাইনের দুই ধারে অবস্থিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

SHARE