৫ মিনিট আগে পৌঁছালেই হতো সর্বনাশ

133

গণধ্বনি ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারী; এই হামলার মধ্যে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সেখানে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে আল নূর নামের মসজিদে ওই হামলা হয়। বাংলাদেশ দলেরও মসজিদে ঢোকার কথা ছিল দুপুর দেড়টায়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন একটু দেরিতে শেষ হওয়ায় সেখানে যেতে বাজে স্থানীয় সময় ১টা ৪০ (বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা নাগাদ)। আর পাঁচ-দশ মিনিট আগে পৌঁছালেও সেই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যেতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

নিউজিল্যান্ড নিরাপদ দেশ হওয়ায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিল না কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। মসজিদের সামনে বাস থেকে নেমে নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকতে গিয়েই ক্রিকেটাররা দেখতে পান রক্তাত শরীরে বেরিয়ে আসছেন এক নারী। তিনি মুশফিকদের বলেন, ভেতরে যেও না, ভেতরে গোলাগুলি চলছে।

ক্রিকেটাররা তখন আবার বাসে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণ বাসে থাকার পর হেঁটে হোটেলের দিকে রওনা করেন তারা। এ সময় ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছিলেন ম্যানেজার খালেদ মাসুদ ও বাংলাদেশ দলের অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক টুইট বার্তায় বলেছে, ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড় নিরাপদে হোটেলে ফিরে এসেছেন।

ওই ঘটনাকে ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য তামিম ইকবাল। এক টুইট বার্তায় তামিম টুইটে লেখেন, পুরো দল বন্দুকধারীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, জঙ্গি ধাঁচের পোশাকে এক ব্যক্তি আল নুর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মসজিদে নামাজ পড়তে ঢুকছিলেন খেলোয়াড়রা; এসময় হামলার ঘটনা ঘলে তারা নিরাপদে ফিরে আসেন।

নিউজজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় ‘যতদূর জানতে পেরেছি’ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। একজন নারী ও তিনজন সন্দেহভাজন পুরুষকে ধরা হয়েছে। অন্য কেউ এতে জড়িত আছে কিনা তা আমরা নিশ্চিত নয়।

হামলার ঘটনাকে খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মসজিদের ওই এলাকা থেকে সবাইকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। পুলিম কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ; তবে এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ক্রাইস্টচার্চের সব মসজিদ এবং স্কুল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

SHARE