রাজশাহীতে নৌকার জয়জয়কার

129

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার জয়জয়কার। রাজশাহীর আট উপজেলার মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হলেও অন্য ছয়জন জিতে এলেন ভোটের মাঠে লড়াই করেই। ভোটে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহীর আটটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। জানা যায়, রাজশাহীর আট উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বদিউজ্জামান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ২১ ভোট। রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আওয়ামী লীগের লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ২২ ভোট। মাত্র ৩৫৪ ভোট কম পেয়ে ময়নার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৬৬ ভোট। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় নৌকার মনোনীত প্রার্থী অনিল কুমার সরকার পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাবুল হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন তিন হাজার ৮৩৪ ভোট। রাজশাহীর পুঠিয়ায় নৌকার প্রার্থী জিএম হিরা বাচ্চু পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির অধ্যাপক আনসার আলী লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ৪৪৩ ভোট। দুর্গাপুর উপজেলায় নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৮০৬ ভোট। তোফাজ্জলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মজিদ সরদার ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৪৯ ভোট। বেসরকারি ফলাফলে রাজশাহীর চারঘাটে নৌকার প্রার্থী ফকরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী টিপু সুলতান মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪০১।পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দফায় রাজশাহীর ৯ উপজেলার মধ্যে শুধু পবা উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো না। পবার নির্বাচনেরও তফশিল ঘোষণা করা হলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেখানকার নির্বাচন এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। রাজশাহীর আট উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ৫২২টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩০৬টি কেন্দ্র সাধারণ ধরে নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা পুলিশের প্রায় দুই হাজার সদস্য। প্রতি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দুটি করে ১০৯টি মোবাইল টিমও দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া মাঠে রয়েছে বিজিবি ও র‌্যাব। রাজশাহীর আট উপজেলায় মোট ভোটার ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে তানোরে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩, গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩, মোহনপুরে এক লাখ ২৯ হাজার ২৪৮, বাগমারায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪, পুঠিয়ায় এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৪, দুর্গাপুর এক লাখ ৪১ হাজার ১০৫, চারঘাটে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ এবং বাঘায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩ জন। রাজশাহী উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে জেলার আট উপজেলায় প্রার্থী ছিল ৬৯ জন। এর মধ্যে চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে নির্বাচনে ৬৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ছয়টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন, ছয়টি উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন এবং আটটি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ৩১ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহীর আটটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন।

SHARE