প্রস্তুতি সম্পন্ন, ভোট উৎসব আজ

144

স্টাফ রিপোর্টার : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট উৎসব আজ রোববার । সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে এসব উপজেলায় আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। টানা ১৬ দিনের প্রচারণা শেষ। রাজশাহীতে ভোটগ্রহণ হবে ৫২২টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের আওতায় রয়েছে ৫০৬টি ভোটকেন্দ্র। বাকি ১৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে নগর পুলিশের আওতাধীন এলাকায়। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে ২০০টি। বাকি ৩০৬টি কেন্দ্র সাধারণ ধরে নিরাপত্তা ছক তৈরী করা হয়েছে। রাজশাহীর নয়টি উপজেলার মধ্যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে পবা উপজেলায় ভোটগ্রহণ হচ্ছেনা। বাকি আট উপজেলায় আজ রোববার একযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিচ্ছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। এ নির্বাচনকে ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেই আশা করছেন সবাই। নির্বাচনের তফশিল অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। এখন ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিচ্ছে আইনশৃংখলারক্ষা বাহিনী। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকেই বলবৎ হচ্ছে বিশেষ এই নিরাপত্তা। নির্বাচনে মোতায়েনকৃত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশ লাইন মাঠে বৈঠক করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ । সেখানে শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্বপালনে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এই নির্বাচনে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে দায়িত্বপালন করবেন জেলা পুলিশের প্রায় ২ হাজার সদস্য। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কৌশল। ভোটগ্রহণ হবে জেলার ৫২২ কেন্দ্র। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩০৬টি কেন্দ্র সাধারণ ধরে নিরাপত্তা ছক তৈরী করা হয়েছে। জেলার তানোর উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৫১ কেন্দ্রে। ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে এ উপজেলায়। গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯৮ ভোট কেন্দ্রের ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫৮টি সাধারণ। মোহনপুর উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ৪৪টি। বাগমারায় জেলার সর্বাধিক ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৯টি সাধারণ। দুর্গাপুরের ৫৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। জেলার পুঠিয়ায় ৫২ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৯টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। চারঘাট উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৪টি। এছাড়া বাঘা উপজেলার ৫৯ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এখানকার ২২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ ধরে নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করেছে পুলিশ বিভাগ। এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতাধীন ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১টি এবং চারঘাটে ৫টি। নগর পুলিশের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলছে নির্বাচন কমিশন। এসব ভোটকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নগর পুলিশ। জেলা পুলিশের মুখপাত্র আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, নির্বাচনে কোথাও কোন নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তারপরও জনগণের নিরাপত্তায় সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্যের সাথে ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর গুর্বত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কেবল বাড়বে একজন পুলিশ সদস্য। নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দুটি করে মোট ১০৯টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রত্যেক থানায় থাকবে একটি করে স্ট্রাইকিং টিম। প্রস্তুত থাকবে জেলা পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য থাকবে রিজার্ভে। নির্বাচনে নগর পুলিশও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা ও চারঘাট উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে ভোটকেন্দ্রে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। রাজশাহীর অন্য চার উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুলকার নায়ন জানান, জেলার তানোরে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩, গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩, মোহনপুরে এক লাখ ২৯ হাজার ২৪৮, বাগমারায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪, পুঠিয়ায় এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৪, দুর্গাপুর এক লাখ ৪১ হাজার ১০৫, চারঘাটে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ এবং বাঘায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। রাজশাহীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইকালে এদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ১৬ জনের। এক চেয়ারম্যান, এক ভাইস-চেয়ারম্যান ও দুই মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী আবার নির্বাচনে ফেরেন হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত। ভোটের মাঠে রয়েছেন ১৮ চেয়ারম্যান, ৩১ ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ২০ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে এদের মধ্যে তিনজনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাদের মধ্যে বাঘার লায়েব উদ্দিন লাভলু ও মোহনপুরের আবদুস সালাম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন। দুজনই ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী। যাচাই-বাছাইকালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে গোদাগাড়ীর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুফিয়া খাতুন মিলির সঙ্গে ভোট করতে অন্য কেউ মনোনয়নপত্রই তোলেননি। তাই তিনি নির্বাচিত হচ্ছেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রাজশাহী বিজিবি-১ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল শুরু করেছে। ভোটের দিন ২০ থেকে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মাঠে থাকবে। উল্লেখ্য, জেলার তানোরে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩, গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩, মোহনপুরে এক লাখ ২৯ হাজার ২৪৮, বাগমারায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪, পুঠিয়ায় এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৪, দুর্গাপুর এক লাখ ৪১ হাজার ১০৫, চারঘাটে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ এবং বাঘায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পশ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮৯ জন প্রার্থী। দুই চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের মাঠে রয়েছেন ১৮ চেয়ারম্যান, ৩১ ভাইস রেচয়ারম্যান এবং ২০ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

SHARE