বগুড়ার মহাজোট চারটি, ঐক্যফ্রন্ট দুুটি ও স্বতন্ত্র একটি আসনে বিজয়ী

200

বগুড়া প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট চারটি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দুটি ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে রাতে রিটার্নিং অফিসার ফয়েজ আহম্মদ বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
বগুড়ার ৭ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারি ৪৭ জন প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান (নৌকা) ২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬৯০ ভোট। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা (হাতপাখা) ৮১৮ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তবিবর রহমান মন্ডল (কলার ছড়ি) ৬৭১ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১০টি কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল) এক লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩৯৩ ভোট। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জামাল উদ্দিন (হাতপাখা) ১হাজার ২৮৫ ও শফিকুল ইসলাম (হারিকেন) ৫২৭ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থীর মধ্যে ১০৮টি কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার (লাঙ্গল) এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাছুদা মোমিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৮০ ভোট। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন (আপেল) ১ হাজার ৯২, মো. আবদুল মজিদ (ডাব) ১ হাজার ৫৮, মো. নজরুল ইসলাম (মোটর গাড়ী) ৪০৩, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির মো. লিয়াকত আলী (কোদাল) ৪৫৪, বিএনএফ এর মো. আবদুল কাদের জিলানী (টেলিভিশন) ৩০৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান আলী তালুকদার (হাতপাখা) ৩ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মধ্যে ১০৫টি কেন্দ্রে বিএনপির মোশারফ হোসেন (ধানের শীষ) এক লাখ ২৮ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদের (ইনু) একেএম রেজাউল করিম তানসেন (নৌকা) পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৪৮ ভোট। এ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ মার্কা) হিরো আলম পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইদ্রিস আলী (হাতপাখা) ৫ হাজার ২৪৭, তরিকত ফেডারেশনের কাজী এমএ কাসেম (ফুলের মালা) ৩১৩, এনপিপির আইউব আলী (আম) ৩৬১ ও ও বিএনএফ এর জীবন রহমান টেলিভিশন) ১৩৮ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ প্রার্থীর মধ্যে ১৭৯ কেন্দ্রে মোট তিন লাখ ৩১ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের হাবিবর রহমান (নৌকা) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৭৭৭ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির তাজ মোহাম্মদ শেখ (লাঙ্গল) ১ হাজার ২১২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মো. মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা) ৩ হাজার ১৫৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা জামান হিমিকা (সিংহ) পেয়েছেন ১৩২ ভোট, আবদুর রউফ মন্ডল জোন (মাথাল) ২০৪ ভোট, এনপিপির আবদুন নুর (আম) ৩৫৩, ইসলামী ঐক্যজোটের নজরুল ইসলাম (মিনার) ১৯৩, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির রঞ্জন কুমার দে (কোদাল) ২৩৬ ভোট ও কমিউনিস্ট পার্টির সন্তোষ কুমার পাল (কাস্তে) পেয়েছে ৪৪৭ ভোট।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৪১ কেন্দ্রে ২ লাখ ৭ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) ৪ হাজার ৩২৩ ভোট, জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়সাল বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ৬৯০ ভোট, ন্যাপের আমিনুর রহমান টিপু (কুড়েঘর) ১ হাজার ২৬ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির আমিনুল ফরিদ (কাস্তে) ১ হাজার ৪৬২ ভোট ও বিএনএফের জীবন রহমান (টেলিভিশন) ৭৯ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি শূন্য আসনে ১৬১ কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক) রেজাউল করিম বাবলু এক লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ডাব) ফেরদৌস আরা খান পেয়েছেন, ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট। এছাড়া মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির মুহম্মাদ আলতাফ আলী (লাঙ্গল) পেয়েছেন, ২৬ হাজার ৫৪ ভোট, এনপিপির ফজলুল হক (আম) ১ হাজার ৭৪৩ ভোট, ন্যাপের মোন্তেজার রহমান (কুড়েঘর) ৩ হাজার ৪৫২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ৩ হাজার ৫৭৮ ভোট ও বাসদের শহিদুল ইসলাম (মই) পেয়েছেন ৩১৮ ভোট।

SHARE