ভোটের ফ্যাক্টর উত্তরের আদিবাসীরা

171

গণধ্বনি ডেস্ক : উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় ২১ লাখ আদিবাসীর বাস। এদের মধ্যে ভোটার ১৪ লাখের বেশি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্তত ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারেন এসব আদিবাসী ভোটার।

আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শেষ হয়েছে। প্রচারণার দিনগুলোতে প্রার্থীরা আদিবাসীদের দরজায় দরজায় গেছেন। দিয়েছেন নানান প্রতিশ্রুতি। তবে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে এবার মন গলছে না আদিবাসী নেতাদের। কথার কথা নয়, তারা কাজের কাজটি দেখতে চান।

আদিবাসী পরিষদের নেতাদের ভাষ্য, উত্তরের আদিবাসীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় চলে এই নীপিড়ন। ঘটে বাস্তুচ্যুত করার মতো অমানবিক ঘটনা। যারা নির্যাতন প্রতিরোধসহ আদিবাসীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেবেন তাদেরই ভোট দেবেন এই সম্প্রদায়ের ভোটাররা।

Rajsahi

জানা গেছে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে মোট ভোটার ২ কোটি ৪০ লাখ ৪৫ হাজার। এর মধ্যে আদিবাসী ভোটারের সংখ্যা ১৪ লাখের কিছু বেশি। উত্তরাঞ্চলের ৭২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৬টি আসনে আদিবাসী ভোটার নিম্নে ২৩ ভাগ থেকে ঊর্ধ্বে ৩৯ ভাগ।

এর মধ্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে আদিবাসী ভোটার ৪৩ হাজার। নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসনে আদিবাসী ভোটার মোট ভোটারের ৩৯ ভাগ। নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামুইরহাট) ও নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনেও ৪০ হাজার করে আদিবাসী ভোটার রয়েছেন।

অন্যদিকে, উত্তরের জেলা দিনাজপুর-১ (কাহারোল-বীরগঞ্জ) আসনে আদিবাসী ভোটার মোট ভোটারের ২৮ ভাগ, দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর-বিরামপুর) আসনে আদিবাসী ভোটার ৩৫ ভাগ। এ দুটি আসনেও আদিবাসী ভোটাররা প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন।

এর বাইরেও অন্তত ১৩ শতাংশ আদিবাসী ভোটার রয়েছে ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আসনগুলোতে।

Rajsahi

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আদিবাসীদের নারী-পুরুষ ভোটাররা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই সক্রিয়। অতীতের সব নির্বাচনেই উত্তরের আদিবাসী ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে শতভাগ ভোট দিয়েছেন। ফলে আদিবাসী ভোটব্যাংক প্রার্থীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। আদিবাসীদের দাবিগুলোর প্রতি যাদের সমর্থন থাকবে, পরিষদের পক্ষ থেকে তাদেরই ভোট দিতে বলা হয়েছে।

আদিবাসী ভোটারদের মন জয় করতে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জানতে চাইলে নওগাঁ-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাধনচন্দ্র মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে গত ১০ বছরে আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ফলে অতীতের মতো এবারও আদিবাসীরা নৌকা প্রতীকেই ভোট দেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

অন্যদিকে রাজশাহী-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এই পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের এগিয়ে নিতে এক দশকে নানান উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, সামাজিক সুরক্ষাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ছিল ব্যাপক। বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়কালে নানানভাবে নীপিড়নের শিকার হয়েছেন আদিবাসীরা। সমৃদ্ধ জীবনের জন্য এবারও আদিবাসীরা নৌকায় ভোট দেবেন।

SHARE