চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি আসনে এগিয়ে আ.লীগ, পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

216
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষের ভোট যুদ্ধ। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টাতে শুরু করেছে। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচনী কথার বাক যুদ্ধ। ৩টি আসনে নির্বাচনী যুদ্ধে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে জামায়াত সমর্থীত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দেওয়ায় নৌকার প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকায় বিএনপির প্রার্থীর ভরাডুবির সম্ভাবনা বেশি।
আওয়ামীলীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি জামায়াত জোট গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জে অগ্নিসন্ত্রাস, পেট্রোল বোমা, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগের কারণে দলের অনেক কর্মী আসামী হওয়ায় তাদের বেশীর ভাগই নিস্ক্রীয় রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ১০ বছরে জেলায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করায় ভোটাররা আওয়ামীলীগের দিকে ঝুকে পড়ায়, আওয়ামীলীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।  এবার ৩টি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭ শত ৬৩ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর উপজেলা ও পৌরসভা) আসন : ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন গঠিত। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শেষ করে ফেলেছেন। এ আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওদুদ ও বিএনপি মনোনীত হারুনুর রশিদের সঙ্গে নির্বাচনী দৌড়ে জামায়াত সমর্থীত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলও আলোচনায় রয়েছেন। গত দশ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ, উন্নয়ন ও সাংগঠনিক গতিশীলতা কাজে লাগিয়ে এবারও জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ। ধানের শীষ প্রতিকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জয়লাভের সম্ভাবনা দেখছেন বিএনপি। অন্যদিকে নিবন্ধন বাতিল হওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী তাদের শক্তিশালী সংগঠনের উপর ভর করে স্বতন্ত্রভাবে ভোট করেও জয়লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
সুত্র জানায়, তিন দলের ভোট যুদ্ধ অনেক পুরোনো। ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে আসছে। সে হিসেবে এবারও তিন দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।
এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ও  জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ এমপি বলেন, গত ১০ বছরে চরাঞ্চলসহ সর্বত্রই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মূলত অবহেলিত চরাঞ্চলের সাথে শহরের যোগাযোগ। যা স্বাধীনতার পর কোন সরকারই উন্নয়ন করেনি। তারা শুধু এ অঞ্চলের মানুষকে ধোকা দিয়ে ভোট নিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা, শেখ হাসিনা সেতু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, রেলের আমূল পরিবর্তন, গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহনসহ প্রায় ৩০টি স্কুল কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ উন্নয়ন দিয়েই সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেছে আওয়ামীলীগ। আগামী ৩০ তারিখ নৌকার জয় হবে ইনশাল্লাহ।
অন্যদিকে, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক সাংসদ হারুনুর রশিদ। ভোটের মাঠে আধুনিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি তাঁর কণ্ঠেও। এ অঞ্চলটিকে বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫’শ ৮০জন। আর আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ আসনটিতে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ৬ প্রার্থী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট) আসন : ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন। শেষ মুহুর্তে গণসংযোগ ও পথসভা অব্যাহত রেখেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ আসনে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মু: জিয়াউর রহমান নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অপরদিকে, ধানের শীষ নিয়ে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.আমিনুল ইসলাম। ৩ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নামলেও মুলত নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
এদিকে, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মুঃ জিয়াউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে উন্নয়নের মহসড়কে বাংলাদেশ এর অংশ হিসাবে এ আসনে ৩টি কলেজ ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি করণ, রেলের উন্নয়ন, ৩২০ কিঃমিঃ পাকা রাস্তা, শতভাগ বিদ্যুৎ ও প্রায় ৩০ টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আর এসব উন্নয়নে আকৃষ্ট হয়ে আবারো ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।
বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপূরক হিসেবে তারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে বিজয়ী হবো।
আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫১ জন। আর আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ আসনটিতে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ৩ প্রার্থী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা-পৌরসভা) আসন : ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসন। ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিএনএফ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন। এ আসনটিতে নৌকা প্রতীকের জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমূল ও বিএনপি’র শাহজাহান মিঞার মধ্যে তীব্র লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। স্থানীয়রা বলছেন, ২ দলের ভোটযুদ্ধ অনেক পুরোনো। সে হিসেবে এবারও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে।
দলীয় সূত্র বলছেন, চলমান উন্নয়ন ও নতুন প্রার্থীর ক্লিন ইমেজকে কাজে লাগিয়ে এবার নির্বাচনে জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিগত যে কোন সময়ের তুলনায় আওয়ামী লীগ অনেক সুসংগঠিত। তাছাড়া শেখ হাসিনার ইমেজ ও ১০ বছরের ব্যাপক উন্নয়নে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে। আর ধানের শীষ প্রতীকের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জয়লাভের সম্ভাবনা দেখছেন বিএনপি।
এদিকে ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমূল বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে শিবগঞ্জ উপজেলার যে উন্নয়ন হয়েছে তা চোখে পড়ার মত। শেখ রাসেল প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, তত্তীপুরে ১টি ব্রীজ, শিবগঞ্জ থানা ভবন, প্রায় ৪০টি স্কুল কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার একাডেমীক ভবন নির্মাণ হয়েছে। এছাড়া ১৪০ কিঃমিঃ নতুন রাস্তা, ও ১৬০ কিঃমি পুরানো রাস্তা সংস্কার, এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে কাজ করায় নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করবে ইনশাল্লাহ।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি বিজয়ী হবেন।
এ আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ১’শ ৩২জন।। আর আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ এ আসনটিতে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ৪ প্রার্থী।
SHARE