উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন

235

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপন করা হয়েছে বড়দিন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার মহানগরীর অভিজাত হোটেলগুলোতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহী সিটি চার্চে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। রাজশাহী ডিনাইরির ডিন রেভারেন্ট বিলিয়াম সর্দার প্রার্থনা করান। এ সময় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় চার্চের মধ্যে সবাই গেয়ে উঠেন ‘ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের মহিমা এবং পৃথিবীতে তাহার প্রিয়পাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি’। বড়দিন উপলক্ষে রাজশাহীর খ্রিস্টান সম্প্রদায় বেথলহেমের সেই আবহ সৃষ্টি করতে তাদের বাড়িতে তৈরি করেছেন প্রতীকী গোশালা। মহানগরীর বাগানপাড়া চার্চের ফাদার পল গোমেজ জানান, একই সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয় দ্বিতীয় বড় উপাসনালয় বাগানপাড়া চার্চেও। বিশেষ উপাসনা শেষে দুপুরে রয়েছে প্রীতিভোজ। শুভ বড়দিন উপলক্ষে রাত ৯টায় কীর্তন গান প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে এ চার্চে। এছাড়া সিটি চার্চ ও ডিঙ্গাডোবা চার্চসহ মহানগরীর অন্যান্য উপাসনালয়ে রাতে যিশু খ্রিস্টকে স্মরণ করে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হবে। এ অনুষ্ঠানে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি খ্রীষ্টান ধর্মাবলাম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান। বলেন, রাজশাহী শান্তির শহর। এই শহরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেন। এই শহরে কোনো মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক, জঙ্গি গোষ্ঠিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। এমন কোনো গোষ্ঠি এখানে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সবাই মিলেই তাদের প্রতিহত করা হবে। রাজশাহীর শান্তি বজায় রাখা হবে। এ সময় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় চার্চের মধ্যে সবাই গেয়ে উঠেন ‘ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের মহিমা এবং পৃথিবীতে তাহার প্রিয়পাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি’। সিটি চার্চ ও ডিঙ্গাডোবা চার্চসহ মহানগরীর অন্যান্য উপাসনালয়ে রাতে যিশু খ্রিস্টকে স্মরণ করে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়েছে। সিটি চার্চের সম্পাদক নীপেন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই তারা বড়দিনের উৎসবে মেতে উঠেছেন। রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রার্থনা। খ্রিস্টান ধর্মাবলাম্বীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তন গেয়ে বড়দিনের আগমনী বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন তারা। এরপর সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে বড়দিনের প্রার্থনা। এদিকে, গির্জা ও হোটেলগুলো বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ সাজ-সজ্জায় সেজেছে। গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন করে। গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলোতে টুকটুকে লাল পোশাক পরা সফেদ দাড়ি-গোঁফের বুড়ো সান্তা ক্লজ উপহারের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছোট্ট সোনামণিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মজার মজার উপহার। রাজশাহীর মহানগর পুলিশের উপ-সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম জানান, দিনটি উদযাপনের লক্ষে চার্চগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে সবাই বড়দিন উদযাপন করছেন।

SHARE