রাজশাহী আদালত পাড়ায় উচ্ছেদ অভিযান

207

রাজশাহী: রাজশাহী আদালত পাড়ায় চলছে টাউট ও দালাল উচ্ছেদ অভিযান। গত ২৪ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার সমিতির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির সদস্যদের হাতে আটক হয় প্রায় ১২ জন এবং মোহরী বারের সদস্যদের হাতে আটক হয় আরো ৩ জন। এদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন শিক্ষানবীশ আইনজী আর বাকীরা ছিলেন ভূয়া মোহরার।
আটককৃতদের কাগজ পত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩জন শিক্ষানবীশকে আইনজীবী না হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা গ্রহন ও আইনজীবী পরিচয়ে মামলা পরিচালনার অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বাকি ২জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
আদালত চত্বরে দালাল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আইনজীবী, মোহরার ও শিক্ষানবীশদের মুখ থেকে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার প্রকাশ ঘটছে। এরই মধ্যে এ অভিযান নিয়ে একাধিকবার এ্যাডভোকেট বার-সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে পরামর্শে বসেন। যার বড় একটি আলোচনার বিষয় ছিল শিক্ষানবীশ আইনজীবী।
গত ৯ দিনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি অভিযান পরিচালনা করলেও শিক্ষানবীশদের না রাখার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে পৌছাননি তারা। তবে গুজব যেন থেমে নেই। আদালত চত্বরের শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের মধ্যে একটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে, কিছু দিনের মধ্যেই রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার সমিতি শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের আদালতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। তাদের হাতেকলমে শেখার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায় বর্তমানে রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার সমিতিতে প্রায় ১২শ আইনজীবী পেশা চর্চা করে আসছেন। আর তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন প্রায় ৫শতাধিক শিক্ষানবীশ আইনজীবী। এদের মধ্যে ৯০জন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরিক্ষার জন্য অপেক্ষমান আছেন। বাকি ৪শ জন শিক্ষানবীশ বার কাউন্সিলের লাইসেন্স এর জন্য ইন্টিমেশন পত্র পাঠিয়েছেন।
প্রিলিমিনারী পরিক্ষায় অংশগ্রহনের পূর্বে বারকাউন্সিলের শর্তানুযায়ী নূন্যতম ৬মাস কোন সিনিয়রের অধিনে আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহন করছেন।
অনেকের শর্ত পূরন হলেও অধিকাংশ শিক্ষানবীশই নতুন। যার ফলে তাদের আদালত চিনতেই ৬মাস লেগে যায়। এমতাবস্থায় তাদের বাদ দেয়া হলে বড় ধরনের ক্ষতির কারন হবে বলে একাধিক শিক্ষানবীশ হতাশা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপরে শিক্ষানবীশ মাজহারুল ইসলাম-(প্রিন্স) বলেন, আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান অর্জন করার জন্য ৬ মাস একজন শিক্ষানবীশের পক্ষে পর্যাপ্ত সময় নয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ সময় কেটে যায়। আদালতের অলি-গলি চেনার পর তারা সিনিয়রের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। এই সময় যদি কোন সিনিয়রের কাছ থেকে শিক্ষানবীশ সরিয়ে দেয়া হয় তা হলে ভষ্যিতে কোন সিনিয়রই আর শিক্ষানবীম নেবেন না। পরবর্তিতে টাকা দিয়েও শিক্ষানবীশরা কাজ শেখার সুযোগ পাবেনা।
বিষয়টি সম্পর্কে রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার সমিতির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, যারা লিখিত পরিক্ষায় পাশ করেছে ও যারা এখনো কোন পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেনি এবং বৈধ আইডি কার্ড, বার প্রদত্ত টাইয়ের অধিকারী তারা আইনজীবীর সহযোগীতার জন্য থাকবেন।
কিন্তু যারা বছরের পর বছর বার কাউন্সিলের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির পরিক্ষায় বার বার অকৃতকার্য হয়েছেন এবং দীর্ঘ্যদিন বারে অবস্থান করায় নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিতে শুরু করেছেন তাদেরকে আর বারে রাখা হবেনা। কিন্তু তারা কোন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে পারবেনা।

SHARE