জামায়াতের ২৫ জনের প্রার্থিতা বহাল রাখল ইসি

169

গণধ্বনি ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সভায় আদালতের রায়ে দলীয় প্রার্থিতা বাতিল হওয়া আসনে বিএনপির দাবি অনুযায়ী পুনঃতফসিল বা বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার সুযোগের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

জামায়াতের ২৫ নেতার মধ্যে ২২ জন বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে এবং তিনজন স্বতন্ত্র হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসিতে আবেদনের পাশাপাশি আদালতে রিট আবেদন করেন তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী। আদালতের নির্দেশনা মেনে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই আবেদন নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা ছিল ইসির।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সংশ্নিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে কোনো আপিল হয়নি। এরই মধ্যে নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে জামায়াতে ইসলামী নামে নির্বাচন কমিশনে কোনো নিবন্ধিত দল নেই। তারা অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সেটি পর্যালোচনা করে কমিশন দেখেছে- তাদের প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ধানের শীষের প্রার্থী মনে করছে ইসি।

জামায়াত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের রিট আবেদনকারীদের মধ্যে রেজাউল হক চাঁদপুরীর সঙ্গে আরও রয়েছেন মো. আলী হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও হুমায়ুন কবির। রিটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনজন জামায়াত প্রার্থীর ভোটে অংশ নেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পায় কমিশন। এ বিষয়ে শুক্রবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, জামায়াতের যে ক’জন প্রার্থী আছেন হাইকোর্ট থেকে তালিকা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নাম পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই। তারা শুধু ধানের শীষের প্রতীক নয়, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন তারা। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ তাদের দেওয়া হয়েছে। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি। বিএনপি মনোনীত করেছে। তাই সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানের সংগঠন প্রজন্ম ‘৭১, গৌরব ‘৭১-সহ একাধিক সংগঠন জামায়াত নেতাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানায়।

জামাতের প্রার্থী যারা : এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, রংপুর-৫ আসনে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনে মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ আসনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে আলহাজ শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ।

গাইবান্ধা-৩ আসনে পুনঃতফসিল : ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনের পুনঃতফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে কমিশন সভায়। এতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় রাখা হয়েছে ২ জানুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ করা হবে ২৭ জানুয়ারি।

এ ছাড়া ইসি সচিব প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, এ পর্যন্ত ২২৩টি আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজ শেষ হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে নতুন করে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

সোমবার থেকে সারাদেশে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সেনাবাহিনীর কত সংখ্যক সদস্য মাঠে নামবেন, তা তারাই নির্ধারণ করবে। তাদের কার্যপরিধি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্রে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

SHARE