রাজশাহীর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা

140

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ১৪ দল মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ৪৪ দফা এই ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজশাহীর উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা ফুটে উঠেছে। ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, এবারও তারা সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ইশতেহারের প্রতিটি বিষয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাদশার ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের ইশতেহার পড়ে শোনান। এই ইশতেহারে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ওপর বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি মেয়র আর ফজলে হোসেন বাদশা এমপি নির্বাচিত হতে পারলে প্রতিশ্রুতির সবই পূরণ সম্ভব। বাদশার ইশতেহারের প্রথমেই রয়েছে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের জন্য তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে রাজশাহীতে হাইটেক পার্কও নির্মাণ করা হচ্ছে। তারপর রয়েছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করা এবং শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার অনূকুল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কল-কারখানায় দ্রুত গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ। ইশতেহারে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, রাজশাহী রেশম কারখানা পুরোপুরি চালু এবং রাজশাহী টেক্সটাইল মিলের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। শিক্ষার উন্নয়নে রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, নতুন একাধিক স্কুল-কলেজ স্থাপন ও অবশিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ, পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী মহাবিদ্যালয় স্থাপন, জনশক্তি রপ্তানিমুখি বিশ্বমানের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগকে ভাষা ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তোলা, রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতালের উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ এবং হযরত শাহমখদুম রূপোষ (র.) এর নামে আন্তর্জাতিক মানের থিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নগরীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও নিরাপত্তার সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়ন করে শিশু শিক্ষা ও ভর্তি সমস্যার সমাধান এবং বিগত ১০ বছরে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- আগামীতেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার এবারের নির্বাচনি ইশতেহারে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য এ শহরে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার জন্য সার্টিফিকেট কোর্স চালুরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির আলোকে আগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সম্প্রসারণ করে দুই হাজার শয্যায় উন্নীত, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পানি শোধনাগার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, বস্তিবাসীদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবরাহ নিশ্চিত, বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় তাদের সুলভে আবাসন সৃষ্টি এবং রাজশাহী অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি-সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় জাতীয় নীতির বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে ইশতেহারে। রাজশাহী সদরের টানা দুইবারের সংসদ সদস্য বাদশা এবার তার নির্বাচনি ইশতেহারে পদ্মা নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা এবং শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের ইচ্ছার কথা বলেছেন। বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য এখানে গড়ে তুলতে চেয়েছেন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা, পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন, রাজশাহী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য তিনি রাজশাহীতে আধুনিকমানের একটি আর্কাইভ ও জাদুঘর স্থাপন করতে চেয়েছেন। এর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে চেয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে তার ইশতেহারে রাজশাহী বিমানবন্দরটিকে কার্গো ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করা, রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু, রাজশাহী-কোলকাতা ট্রেন ও বিমান সার্ভিস চালু, ঢাকা-রাজশাহী একাধিক বিরতিহীন ট্রেন চালু, রাজশাহীর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি জাতীয় মহাসড়ককে ৪ ও ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা এসেছে। এতে রাজশাহীর কাঁচাবাজারগুলোর উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কশাইখানা স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী থেকে সরাসরি হজ্ব ফ্লাইট চালু এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কৃষি আদালত স্থাপনের দাবী বাস্তবায়ন এবং শস্যবীমা চালু করতে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে বাদশার ইশহেতারে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আজকে যিনি সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী, তিনি ১৭ বছর মেয়র এবং এমপি ছিলেন। ২০০৮ সালে আমি যখন মেয়র নির্বাচিত হই তখন সিটি করপোরেশনে গিয়ে দেখি, তিনি সব জায়গায় অনিয়ম-দুর্নীতি আর বিশৃঙ্খলা করে গেছেন। সেই জায়গা থেকে এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সহাযোগীতায় সিটি করপোরেশনকে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। এখন আমি মেয়র আছি, এমপি বাদশা আবার নির্বাচিত হলে আমরা দুজনে মিলেই তার ইশতেহার বাস্তবায়ন করব। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমরা এই ইশতেহারে শুধু মৌলিক বিষয়গুলো স্থান দিয়েছি। এর বাইরে অনেক কাজ করেছি এবং করতে চাই। আমরা জনগণের টাকা জঙ্গিদের হাতে তুলে দিতে চাই না, যেমনটি মিজানুর রহমান মিনু করেছিলেন। আমরা রাজশাহী শহরকে যানজটমুক্ত করতে সাহেববাজার ও রেলগেট এলাকায় দুটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করতে চাই। বর্তমান সরকার যেভাবে উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করছে তাতে এই ইশতেহারের ৪৪ দফা পাঁচ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসেন, নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, ক্রীড়া সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকম-লীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, নগর জাসদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী, শফিকুল ইসলাম শফিক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামানিক, আরিফুল হক কুমার, লিয়াকত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

SHARE