জঙ্গি ইস্যুতে বিব্রত মিনু

159

স্টাফ রিপোর্টার : জনতার মুখোমুখি হলেন আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদের চার প্রার্থী। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেসরকারি সংবাদভিত্তিক একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘জনতার দরবার’ নামে অনুষ্ঠানে এই প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখি করে। রাজশাহী চেম্বার ভবনের সম্মেলন কক্ষে স্থাপিত অস্থায়ী স্টুডিও থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে চ্যানেলটি।

অনুষ্ঠানে সদর আসনের সংসদ সদস্য ও নির্বাচনে ১৪ দল মনোনীত নৌকা প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, কমিউনিস্ট পার্টির এনামুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফয়সাল হোসেন জনগণের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তুলে ধরেন রাজশাহীকে ঘিরে তাদের নানামুখি পরিকল্পনার কথা। বর্তমান সংসদ সদস্য বাদশা টানা ১০ বছরে কি কি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরেন।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক শারমিন চৌধুরীর নানা প্রশ্নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু শুরু থেকেই সরকারবিরোধী নানা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। শারমিন চৌধুরী একপর্যায়ে তার কাছে জানতে চান, মেয়র থাকা অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদদানের অভিযোগ রয়েছে। আপনার দল থেকে এবার রাজশাহী-৪ আসন থেকে যিনি প্রার্থী হয়েছেন আবু হেনা, যিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং তিনি প্রকাশ্যে আপনার বিরুদ্ধে এ কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?’

জবাবে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এটা ঠিক না। আবু হেনা এবারও নির্বাচন করছেন, তাকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন। এ সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় যখন জঙ্গি মদদদানে জড়িত হয়ে পড়ে তখন স্থানীয় কারও কারও তাতে সম্পৃক্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আমরা মিজানুর রহমান মিনুর সম্মানহানি করতে চাই না।

তবে একটু পর জঙ্গিবাদ নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান মিনুর সামনেই বলেন, আমি মিনুর সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ আনতে চাই না। এটা অনুচিত। যা কিছু বলতে চাই তা কোর্টে ডকুমেন্ট হিসেবে আছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই আদালতে তার জবানবন্দীতে বলেছিলেন, মিনু মেয়র থাকা অবস্থায় বাংলা ভাইকে টাকা দিয়েছিলেন। এটা সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সের টাকা। আমাদের জনগণের টাকা।

রাজশাহী সদর আসনের টানা দুইবারের এই সংসদ সদস্য বলেন, বাগমারায় যখন জঙ্গিদের উত্থান ঘটলো তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জঙ্গি বলে কিছু নাই, সব মিডিয়ার সৃষ্টি। তার এই বক্তব্য সারাদেশে ঝড় তুলেছিল। এর কিছুদিন পর দেখা গেল, বিএনপি নেতাদের মদদে এবং তৎকালীন প্রশাসনের সহায়তায় রাজশাহী নগরীতে এসে জঙ্গিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল করে গেল। বিএনপি নেতারা যে জঙ্গিদের মদদদান করেছিলেন তা আদালতে ডকুমেন্ট হিসেবে আছে।

এসব বিষয় নিয়ে মিজানুর রহমান মিনু কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি। আদালতে থাকা এসব ডকুমেন্ট মিথ্যা-তিনি সেটাও দাবি করেননি। জঙ্গি প্রসঙ্গে একরকম চুপচাপ থাকেন মিনু। অনুষ্ঠানে একজন ভোটার মিনুর কাছে জানতে চান, তিনি ১৭ বছর মেয়র ও এমপি থাকার পরও রাজশাহী অর্থনীতিতে কেন এগিয়ে যেতে পারেনি। মিনু সে প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে ভোটারের প্রশ্নের জবাবে বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, বিএনপি সরকারের আমলে বন্ধ করে দেয়া রাজশাহীর দুটি সরকারি কারখানা তিনি চালু করেছেন। বাদশা বলেন, বিএনপি সরকার বিমানবন্দরও বন্ধ করে দিয়েছিল। সেখানে ঘাস বের হয়েছিল। আমরা ঘাস কেটে বিমানবন্দর চালু করেছি। এখন প্রতিদিন তিনটা করে বিমান চলাচল করে।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে হাইটেক পার্ক করছি। নির্মাণ কাজ শেষ হলে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। আমি পরীক্ষামূলকভাবে রাজশাহী রেশম কারখানা চালু করেছি। সেখানে কাপড় উৎপাদন হচ্ছে। আগামীতে পূর্ণাঙ্গভাবে কারখানাটি চালু করতে চাই। তিনি এবার নির্বাচিত হতে পারলে রাজশাহীর রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন।

SHARE