যারা নিরীহ শ্রমিকদের আগুনে পুড়িয়ে মারে তারা অমানুষ: বাদশা

143

স্টাফ রিপোর্টার : যারা পেট্রোল বোমা মেরে শ্রমিকদের হত্যা করে তাদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ১৪ দল মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেছেন, যে রাজনৈতিক শক্তি শ্রমিকদের পুড়িয়ে মারে তাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া যায় না। তাদের সমর্থন করা যায় না। কারণ, নিরীহ শ্রমিকদের যারা আগুনে পুড়িয়ে মারে তারা অমানুষ।

আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সর্বস্তরের পরিবহন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহীর পরিবহন পরিবার মঙ্গলবার রাতে নগরীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বাস টার্মিনালে এ সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সদর আসনে নৌকার প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা সবচেয়ে হালাল উপার্জন করেন। তাদের পুড়িয়ে মারাটা সহ্য করা যায় না। বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসীরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর রাজশাহীর লিলি হলের সামনে এক ট্রাক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। তার বাড়ি গিয়েছিলাম। দেখলাম, ভাঙা বাড়ি। স্বজনদের কান্না সহ্য করার মতো নয়। পরদিন গিয়ে দেখলাম, গরীব খেটে খাওয়া এই মানুষটির জানাযায় অসংখ্য মানুষ। তারা সবাই আমাকে বলেছিলেন, যারা এভাবে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের যেন আমরা ক্ষমতায় না দেখি। আমাদের সেই শপথ নতুন করে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তানোরের গোল্লাপাড়া বাজারে আগুন সন্ত্রাসীরা ৬ মাসের এক শিশুকে পুড়িয়ে মেরেছিল। তার পরিবারের কান্নাও মেনে নেয়া যায় না। জামায়াত-বিএনপি যখন এই হত্যাযজ্ঞ শুরু করল তখন আমি এই উত্তরবঙ্গে প্রথম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিট চালু করেছিলাম। শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমি শ্রমিকদের সঙ্গে আছি। আপনারাও সব সময় আমার পাশে থাকবেন।

রাজশাহী সদর আসনের টানা দুইবারের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আজকে যিনি সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি এক সময় সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। ২০০৫ সালে বাগমারা থেকে জেএমবি জঙ্গিরা রাজশাহীতে এসে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছিল। এই ট্রাকের ভাড়া কে দিয়েছিল?

এই টাকা ছিল সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের টাকা। বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি কার্যকরের আগে আদালতে এ কথাই বলেছিল। তাই বিএনপি নেতারা এমপি নির্বাচিত হলে আবার জঙ্গিদের লালন করা হবে। তাদের ভোট দেয়া মানে নিজেকে হত্যার অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া। আর আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি। তাই নৌকা প্রতীকেই ভোট দিতে হবে।

বাদশা আরও বলেন, আজকে যারা উন্নয়নের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাইছেন কিছু দিন আগেও তাদের নেতা সিটি মেয়র ছিলেন। তিনি শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছিলেন না। আমি আমার উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বেতনের ব্যবস্থা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, এএইচএম খায়রু জ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশনে আবার সুদিন ফিরবে। তিনি মেয়র হয়েছেন। সেই নির্বাচনের মতো এবারও নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আমরা দুই ভাই হাতে হাত রেখে রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করে যাব।

সভায় রাজশাহীকে ঘিরে নিজের কিছু স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, রাজশাহী টেক্সটাইল মিল চালু করেছিলেন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান। বিএনপি-জামায়াত সরকার শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে সেই মিল বন্ধ করে দিয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমরা নির্বাচিত হতে পারলে আবার মিল চালু হবে। রাজশাহী রেশম কারাখানও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। রাজশাহীর রেশমের ঐতিহ্য ফিরবে। রাজশাহীতে গ্যাস আছে। আমরা শিল্প-কারাখানা গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। রাজশাহী হবে শান্তির নগরী, কর্মসংস্থানের  নগরী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান পিটার। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবির সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আক্কাশ আলী, বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফকাত হোসেন বিপ্লব  প্রমুখ। তারা এই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, আগের কোনো সরকার শ্রমিকদের কথা চিন্তা করেনি। বরং ক্ষমতার লোভে তারা পেট্রোল বোমা মেরে শ্রমিকদের হত্যা করেছে। আমরা তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠন করে দিয়েছে। এই সরকার যেভাবে শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করেছে তা আর কেউ করেনি। তাই সবাই মিলে নৌকার বিজয় নিশ্চিতে কাজ করবেন যেভাবে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা নৌকার বিজয়ে কাজ করেছিলেন।

SHARE