আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যা আছে

176

গণধ্বনি ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ-


‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’

বিশেষ অঙ্গীকার

আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশু কল্যাণ
পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা দারিদ্র্য নির্মূল সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা আধুনিক কৃষি-ব্যবস্থা-লক্ষ্য যান্ত্রিকীকরণ দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ব্লু-ইকোনমি-সমুদ্রসম্পদ উন্নয়ন নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আগামী পাঁচ বছরের (২০১৯-২৩) লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

৩.১ গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সাথে রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনের সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতির রাজনৈতিক অর্থনৈতিক তথা সার্বিক মুক্তির লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ গত প্রায় সাত দশক যাবৎ বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে চলেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বারবার বাংলার জনগণ সামরিক ও স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে-এগিয়ে চলছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা তাদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে নির্বাচনী-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে জাতীয় চার নীতির অন্যতম নীতি গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার পথকে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মাধ্যমে রোধ করার সাধ্য কারও নেই।

সাফল্য ও অর্জন

বিগত ১০ বছরে জাতীয় সংসদই ছিল সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রয়োজনীয় নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা এবং যথাযথ বাজেট বরাদ্দ ও জনবল নিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে।

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী এবং বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সকল দল ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি দ্বারা স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ কিংবা জন্মস্থানভিত্তিক সকল বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে।

রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করা, বিদ্বেষ দূরীকরণ, তৃতীয় লিঙ্গসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিকরণ, নাগরিক অধিকার ও সুবিধা জনগণের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কর্মতৎপরতা চলছে।

তথ্য অধিকার আইন, স্বাধীন তথ্য কমিশন, ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, অসংখ্য কমিউনিটি রেডিও, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দেশব্যাপী ইন্টারনেট সুবিধা আজ অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি করে মানুষের তথ্য
অধিকার নিশ্চিত করেছে, যা অভূতপূর্ব।

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, চাহিদা প্রকাশ ও প্রাপ্তি এবং এর সুরক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন গণমাধ্যম, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে স্থায়ী কমিটিসমূহের সক্রিয় দায়িত্ব পালন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীবর্গের প্রশ্নোত্তর পর্বে নিয়মিত অংশগ্রহণ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা, সরকার ও বিরোধী দলের সংসদে গঠনমূলক দায়িত্ব পালন, অশ্লীল ও অগ্রহণযোগ্য এবং অসংসদীয় আচরণ থেকে সংসদকে মুক্ত রাখা হয়েছে।

দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ রাষ্ট্রসমূহের সকল জাতীয় ও স্থানীয় সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)-এর চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দশম জাতীয়
সংসদের অন্যতম সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্বের সকল সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের দশম সংসদ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি
গণতান্ত্রিক বিশ্বের অবিচল আস্থার এ এক অভূতপূর্ব নিদর্শন।

সকল ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন এবং সকল দলের অংশগ্রহণের ভিতর দিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে এবং সংবিধান হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল।

৩.২ আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা আইনের শাসনের মূল বক্তব্যই হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান; কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এই নীতির আরেকটি অর্থ হচ্ছে- কেবলমাত্র সংবিধান ও নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনসমূহের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে একটা দীর্ঘ সময় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ পরিচালিত হওয়ায় আইনের শাসন ভূ-লুণ্ঠিত হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এ যাবত তিন মেয়াদে সরকারে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।

সাফল্য ও অর্জন

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে
সাংবিধানিক সুরক্ষাকরণের বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(ক) ও ৭(খ), অনুচ্ছেদ ১৫০ ও চতুর্থ তফসিলের বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংবিধানের বাইরে বা সংবিধান পরিপন্থী কোনো অবৈধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরবর্তীতে সেটিকে বৈধতা দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।

বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারক নিয়োগের পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের জন্য যৌক্তিক বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, তৃণমূল মানুষের বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা, বিরোধ নিরসনে বিকল্প পদ্ধতির
(এডিআর) ব্যবহার, আইনি সহায়তার জন্য জেলায় জেলায় লিগ্যাল এইড প্রতিষ্ঠা, বিচারকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করার মধ্যদিয়ে বিচার বিভাগের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে।

অবৈধ ক্ষমতা দখলদারেরা আইনের শাসনের পথ রুদ্ধ করে দিতে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে, এমনকি পুরস্কৃতও করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দায়মুক্তির এ অপসংস্কৃতি রোধ করেছে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দণ্ডিত যারা আটক ছিলেন তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য-সহায়তা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিত
করা হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে।

সার্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

৩.৩ দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন

মানসম্মত সেবা প্রদানের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১-এর উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। সরকারের প্রচেষ্টা, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ফলে সরকারি দপ্তরে কাজের দক্ষতা ও পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে অহেতুক কালক্ষেপণ এবং কাজের জটিলতা হ্রাসে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধারাকে অগ্রসর করে নিতে হবে।

সাফল্য ও অর্জন

ইতোমধ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্স চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা হয়েছে।

সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মবৃত্তে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির মাপকাঠি শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়; যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ এবং জনগণ ও সংবিধানের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এজন্য জনপ্রশাসন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং কার্যকর করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উন্নত কাজের পরিবেশ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সৎভাবে সম্মানজনক জীবন ধারণের জন্য মূল্যস্ফীতির নিরিখে বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে ২০০৯ ও ২০১৫ সালে দুবার প্রায় সাড়ে তিন গুণ (৩৪৪ শতাংশ পর্যন্ত) বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন; পাঁচ ধাপে এই পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে (৩০ জুলাই ২০১৮ প্রজ্ঞাপন)।

উপসচিব পদমর্যাদা পর্যন্ত সামরিক ও অসামরিক সকল কর্মচারী গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা সুদবিহীন ঋণ পাবেন এবং পরিচালনা বাবদ পাবেন মাসিক ৫০ হাজার টাকা।

শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী প্রজাতন্ত্রের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাসিক পেনশন পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। যারা এককালীন পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেছেন, তাদের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পেনশন সুবিধা পুনঃস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং
তাদের পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে
তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে।

নিশ্চিত করা হবে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবাপরায়ণতা। প্রশাসনের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্বাহী নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সর্বপ্রকার হয়রানির অবসান ঘটানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা স্তর কঠোরভাবে সংকুচিত করা হবে।

নিয়মানুবর্তী এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার কাজ অগ্রসর করে নেওয়া হবে।

৩.৪ জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে পূর্বে জনমনে এক ধরনের ভীতি বিরাজ করত। সেটা দূর করে একটি জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষার পূর্বশর্ত হলো- স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে।

সাফল্য ও অর্জন

২০০৯ সালের জনসংখ্যার সাথে পুলিশের অনুপাত ১:১৩৫৫ হতে বর্তমানে ১:৮০১-এ দাঁড়িয়েছে।  পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, রংপুর রেঞ্জ, রংপুর আরআরএফ,
ময়মনসিংহ রেঞ্জ, দুটি র‌্যাব ব্যাটালিয়ন, সাইবার পুলিশ এবং গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-সহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ
রক্ষার্থে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ ইন্সপেক্টরদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। তারা বছরে একবার এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা পাচ্ছেন। কারারক্ষী, কোস্টগার্ড এবং আনসার-এর দশম গ্রেড ও নিম্নপদের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

বিগত ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর হতে দেশে উগ্র এবং জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। সরকারের দৃঢ় অবস্থানের ফলে জঙ্গি অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীসমূহের আত্মসমর্পণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের এক যুগান্তকারী মাইলফলক। সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে এবং বহু সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশকে জনবান্ধব করার লক্ষ্যে যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য ‘৯৯৯’ সেবা চালু
করা হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণের জন্য ‘পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট’ ও ‘কমিউনিটি ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে।

আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাসিক ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

আগামী পাঁচ বছরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কারের কাজ আগামীতে অব্যাহত থাকবে।

পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কাজ চলমান থাকবে। সেবা প্রদানের জন্য দ্রুত সাড়াদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরঞ্জামাদি সরবরাহ, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রয়োজনীয়
ভূমি ও অবকাঠামোর সংস্থান, প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যের পরিধি বিস্তারে কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

৩.৫ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ

দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। পেশিশক্তির ব্যবহার ও অপরাধের শিকড় হচ্ছে দুর্নীতি। যার ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনে অবক্ষয় বা পচন শুরু হয় এবং অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন প্রভৃতি কোনো ক্ষেত্রেই ইস্পিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইনের প্রয়োগ মুখ্য হলেও তা শুধু সরকারের দায় নয়, জনগণেরও দায় রয়েছে। আমরা মনে করি, দুর্নীতি দমনে প্রয়োজন সরকার ও জনগণের সমন্বিত পদক্ষেপ।
সাফল্য ও অর্জন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে জনগণ এর সুফল ভোগ করছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কার্যপরিচালনা করার জন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ জনগণ যাতে সহজে দাখিল করতে পারে, সেজন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘অভিযোগ গ্রহণ বাক্স’ স্থাপন করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন চাহিদা নিরূপণ করে সরকারের নিকট বাজেট বরাদ্দ চেয়ে থাকে এবং কমিশনের চাহিদা মোতাবেক সরকার বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থায়ন করে আসছে।
লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

দুর্নীতি দমন কমিশনকে কর্ম পরিবেশ ও দক্ষতার দিক থেকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা হবে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এবং প্রায়োগিক ব্যবহারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩.৬ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল

সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক মানবতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রগতির পথে অন্তরায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পূর্বাপর পরাজয়ের প্রতিশোধ ও ক্ষমতা দখল করতে সন্ত্রাস-সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিএনপি-জামাত জোট আমলে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে আমরা নিন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু
দেশ এখন জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বসমাজে প্রশংসিত।

সাফল্য ও অর্জন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বিশেষভাবে জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে প্রশংসিত হয়েছে।

উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং জঙ্গিবাদের হাত থেকে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন ও তা বানচালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

অবৈধ অস্ত্র আমদানি, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, বেচাকেনা ও ব্যবহার কঠোর হস্তে দমন
করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক রোধকল্পে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকবিরোধী প্রতিবাদ, তৎপরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

আগামীতে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান থাকবে।

সন্ত্রাসী-গডফাদারদের এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্যআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

৩.৭ স্থানীয় সরকার : জনগণের ক্ষমতায়ন
তৃণমূলের জনসাধারণের নানামুখী চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কার্যকর স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দারিদ্র্য নিরসন ও বৈষম্য হ্রাস করে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দরকার স্বায়ত্তশাসিত কার্যকর ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। ইতোমধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে
ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন, ক্ষমতা ও দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করে নিতে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

৩.৮ সামষ্টিক অর্থনীতি : উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন

২০০৭-০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দা, অর্থনৈতিক শ্লথ ও সংকট পরবর্তী একটি কঠিন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বিগত সময়ে বিএনপি-জামাত জোটের দুঃশাসন এবং ১/১১ সরকারের জোরজবরদস্তি ও অবিমৃশ্যকারী পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বন্ধ্যত্ব এবং দুই মেয়াদে ১০ বছর বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে বর্তমানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে সাফল্য ও অর্জন, তা দেশের ইতিহাসে অনন্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই ধারাকে অগ্রসর করে নেওয়াই আগামী দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ।

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ থেকে স্বাধীনতার ৭০ বছর ২০৪১ বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে উন্নয়নের সূচকগুলোর বিস্ময়কর অগ্রগতি এবং আপামর মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নতি গণমনে আত্মবিশ্বাস ও সাহস এমন পর্যায়ে উন্নীত
করেছে যে, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তর সম্ভব।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লক্ষ্য অর্জন করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাধীনতার ৭০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারি কৌশল ও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এই পরিকল্পনায় অঙ্গীকার অনুয়ায়ী ২০১৯-২৩ সময়কালের লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসূচির সাথে সাথে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রাকে এমনভাবে সমন্বয় করা হবে, যাতে দেশ ধারাবাহিকভাবে সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য অভিমুখে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ পালনকালে হবে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪৭৯ ডলারেরও বেশি।

এই পরিকল্পনায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক দারিদ্র্যের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

২০২১ থেকে ২০৪১, অর্থাৎ ২০ বছর বাংলাদেশকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ১০ শতাংশ ধরে রাখতে হবে। গত অর্থবছরে ৭.৮৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধির হার প্রমাণ করে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।

২০৪১ সালের মধ্যে বিনিয়োগের হার জিডিপি-র ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

পর্যাপ্ত অবকাঠামো সেবা সরবরাহ করতে হবে।

রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ব্যাংক ও বীমা খাতের সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ ও গভীরতা এবং পুঁজিপণ্য সরবরাহ ও বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।

ইতোমধ্যে চীনা কনসোর্টিয়াম ঢাকা পুঁজিবাজারে কৌশলগত বিনিয়োগ করেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের লেনদেন দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে।

দেশব্যাপী বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগোপযোগী করতে কারিগরি শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে অধিকতর বিনিয়োগ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রাধিকার পাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরীখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এই কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে ‘তরুণ কর্মসংস্থান কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এছাড়া উক্ত সময়ে নতুনভাবে ১ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে।

তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় গড়ে তোলা হবে একটি করে ‘যুব বিনোদন কেন্দ্র’ যেখানে থাকবে বিভিন্ন ইনডোর গেমসের সুবিধা, মিনি সিনেমা হল, লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া সেন্টার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্নার, মিনি থিয়েটার ইত্যাদি।

স্বল্প খরচে তরুণদের কাছে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘ইয়ুথ প্ল্যান’ চালু করা হবে।

উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও জঙ্গিবাদের প্রথম লক্ষ্য যুবসমাজকে আকৃষ্ট করা। এই যুবসমাজ যাতে আদর্শিক ভ্রান্তিতে মোহাবিষ্ট হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত না হয়, সেজন্য কাউন্সিলিং এবং তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশকে ত্বরান্বিত করা হবে।

৩.১২ নারীর ক্ষমতায়ন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংবিধানের ১০ ও ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ’ এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। প্রসূতি মায়েদের জন্য ছয় মাসের ছুটি এবং পিতার সাথে মাতার নাম লেখার নীতি প্রভৃতি সব আওয়ামী লীগেরই অবদান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কর্মের সব পরিসরে নারীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

৩.১৩ দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস

দারিদ্য বিমোচন

বিদেশি শাসন ও শোষণের ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দারিদ্র্য একবিংশ শতকের উপযোগী আলোকোজ্জ্বল সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে অন্তরায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সামরিক স্বৈরশাসনের আমলে ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ নীতি জাতির পিতার স্বপ্ন ‘দুঃখী মানুষের মুখে
হাসি ফোটানোর’ পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ শাসনামলে জাতি দারিদ্র্য বিমোচনে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছিল। কিন্তু আবারও পথভ্রষ্ট হয় জাতি। বিগত ১০ বছরে জাতি আজ অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। বর্তমানের সাফল্য ও অর্জনের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী দিনগুলোতে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

বৈষম্য হ্রাস

ধনী-দরিদ্র ও শহর-গ্রাম পর্যায়ে আয় বৈষম্য হ্রাস করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকারাবদ্ধ।

ইশতেহার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আলোকোজ্জ্বল পথে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ১০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আমরা গত ১০ বছরে পরপর দুই মেয়াদে নিরলস পরিশ্রম করে কাজ করে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি। আপনাদের নিরঙ্কুশ সমর্থন ও সহযোগিতায় ২০০৮ সালে ভোট ও ভাতের অধিকার সম্বলিত ‘দিনবদলের সনদ’ এবং ২০১৪ সালের ‘শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ এগিয়ে যাবার অঙ্গীকার পূরণ করতে পেরেছি। এ কৃতিত্ব কেবল আপনাদের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের নয়, এর গর্বিত অংশীদার আপনারা, এদেশের আপামর জনগণ। এ-জন্য আপনাদের জানাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমাদের পবিত্র
সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। আশা করি, আমাদের পরিশ্রম ও উন্নয়ন কাজের প্রতি সুবিবেচনা করে দেশের সামগ্রিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের স্বার্থে আগামী পাঁচ বছরের জন্য জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেবেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সচেষ্ট থেকেছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মহাযজ্ঞে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশ্ববাসীর চোখে উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সৃষ্টি হয়েছে সরকার, আওয়ামী লীগ ও জনতার পবিত্র মেলবন্ধন, যাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত করতে হবে। জাতিসংঘসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে উন্নয়ন-অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু পায়। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল লুক্কায়িত সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে জনগণের দল আওয়ামী লীগ।

তরুণ প্রজন্মসহ দেশবাসীর সাথে আমরা অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আপনাদের মহান রায় প্রার্থনা করছি। এরই মধ্যে ২০২০-২১ সালে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও তারই সূচিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করব। এই মহান কর্মকাণ্ডে আপনারা অতীতের মতোই জোরালো সমর্থন দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন- এই কামনা করছি। উন্নত বাংলাদেশ আমাদের প্রত্যয়, দেশপ্রেম আমাদের চেতনা, জনসেবা আমাদের কর্তব্য। আমাদের অগাধ বিশ্বাস সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি সুবিচার ও সুবিবেচনা করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়ে আপনারা আরেকবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ দেবেন। এ পর্যন্ত আমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে প্রভূত অগ্রগতি সাধন করতে পেরেছি, তা যাতে আরও টেকসই, সুসংহত করে প্রতিটি মানুষের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া যায় সে-জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরে এসে আমরা সবাইকে নিয়ে আমাদের সকল আরব্ধ কাজ সমাপ্ত করতে চাই।

SHARE