স্থানীয় প্রশাসনসহ সিইসির পদত্যাগ চাইলেন রাজশাহী জেলার ৫ প্রার্থী

133

স্টাফ রিপোর্টার : ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীসহ সমর্থকদের ওপর গুলি, হামলা, গণ গ্রেফতার বন্ধসহ নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহী জেলার ৬টি আসনের বিএনপির প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০দলীয় জোট রাজশাহীর আয়োজনে নগরীর স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তুলে ধরেন ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় ডিআইজি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সিনিয়ন ইলেকশন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জাতীয় এক্যফ্রন্টের নমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দেশের শান্তিপুর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন দায়ি থাকবে। অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু তারা একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। এসময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি সেনাবাহিনী দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানিয়ে আরও বলেন, ম্যজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে আজ-কালের মধ্যেই সেনাবাহীনীকে মাঠে নামাতে হবে। জীবন দিয়ে হলেও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ভোট দিতে যাবে। আমাদেরকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হক বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক যে সকল আইন রয়েছে, তা শুধুমাত্র বিরোধী দলের ক্ষেত্রেই প্রয়োগে হচ্ছে। এসময় তনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলে বেরাচ্ছে ‘ভোট যাকেই দেয়া হোকনা কেন আওয়ামী লীগই জিতবে’। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের সারাক্ষণ ভয় ভীতি দেখিয়ে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। আর এভাবে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারে না।

রাজশাহী-৪ (বাঘা) আসনের প্রার্থী আবু হেনা আওয়ামী লীগের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে বাগমারা থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার আসনে আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ব্যানার-পোন্টার লাগান হয়েছে।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, আমরা সকালে নির্বাচনী প্রচারে বের হই। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকেরা রাত ৮টার পর বের হয়ে মাঠে থাকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। এসময়ে তারা আমাদের পোস্টার ছিড়ে ও নির্বাচনী কার্যালয়গুলো ভেঙে ফেলছে। আমার পক্ষে মাইকিং করা হলে মাইক ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মাইকিং করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন যেভাবে বলেছে আমরা তাদেরকে সে ভাবেই প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন ফল পাইনি। এতেই প্রমাণ হয় প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের প্রর্থী আবু সাইদ চাঁদ জেলে থাকায় তার পক্ষে তার ছেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, আমি ও আমার মাকে হুমকী দেয়া হচ্ছে। আমরা যেখানে প্রচারে যাচ্ছি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাহিনী আমাদেরকে অনুসরণ করছে। তারা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মন্ত্রীর নেতৃত্বে স্থানীয যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের। আমরা মন্ত্রীর এলাকা বাঘায় যেতে পারছি না প্রচারের জন্য।

এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী জেলার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপর) আসনে আমাদের প্রার্থী নাদিম মোস্তফা। আজ (মঙ্গলবার) আদালতেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে নাদিম মোস্তফা উপস্থি না থাকলেও তার প্রতিনিধি উপস্থিত আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলার ৬টি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীসহ আরও উপস্থিত ছিলেন তাদের এজেন্ট ও দলটির নেতাকর্মীবৃন্দ।

SHARE