নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে মাঠে নামল ‘সেভেন স্টার’

186

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি :কয়েকদিন আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী-তানোরে সক্রিয় ছিল তৃণমূূল আওয়ামী লীগের সাত নেতার জোট ‘সেভেন স্টার’। এ গ্রুপ মাঠে ছিল বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরোধীতায়।

তার দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে একাট্টা ছিল গ্রুপটি। কিন্তু এখন সেই বরফ গলেছে। ফারুক চৌধুরীকে জেতাতে মাঠে নেমেছেন ‘সেভেন স্টার’ খ্যাত এ সাত নেতা। নৌকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন হাতে হাত রেখে। বৃহম্পতিবার বিকেলে গোদাগাড়ীর ফিরোজ চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় নৌকাকে জেতানোর শপথ নেন তারা।

দীর্ঘদিনের রাজশাহী জেলা আ.লীগের ৭ নেতার সাথে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গোদাগাড়ী তানোরের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর দ্বন্দ মিটিয়ে ফেলার পর এবার নৌকাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হককে পরাজিত করার শপথ নিলেন নেতারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোদাগাড়ী শহীদ ফিরোজ চত্ত্বরে পৌর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী সভায় একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতের সকল রাগ, ক্ষোভ, দ্বিধা-দ্বদ্ধ ভুলে গিয়ে এই প্রত্যয় নেন নেতারা।

জনসভায় বিপুল সংখ্যক নিতাকর্মী ও জনসাধারণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিনের সকল কিছু অবসান ঘটিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সেভেন স্টারের’ একজন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। তবে উপস্থিত ছিলেন- তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ও গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান এবং জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জেমস। অনেককে একই মঞ্চে দেখে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

নেতারা বক্তব্য দিতে উঠলে জনসভা স্থল স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়। জনসভার প্রধান অতিথি ও রাজশাহী-১ গোদাগাড়ী-তানোর আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আজকে আমরা সব কিছু ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। শেখ হাসিনার ডাকে আমার সাথে সকলেই সংহতি প্রকাশ করায় তাদের অভিনন্দন জানাই।

তিনি বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আমিনুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন,  ব্যারিষ্টার আমিনুল হককে বিজয়ী হতে দেব না। তিনি শুধু মিথ্যাচার করেন, আপনি বারবার বলেন রাস্তা করেছেন সেই রাস্তা ঠিক নাই। ঠিক থাকবে কিভাবে ১২ বছর আগে ক্ষমতায় ছিলেন সেই রাস্তা আর নেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যা উন্নয়ন করেছেন তার কোনটায় করতে পারেন নি। আপনার পরাজয় ৩০ তারিখে হবে। আমরা নৌকাকে বিজয়ী করব। যারা আমার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন তাদের অভিনন্দন জানিয়ে নোকার বিজয় হবে বলে মন্তব্য করেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি একেএম আতাউর রহমান খান বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে নৌকার জন্য কাজ করতে হবে। আমরা এক হয়েছিলাম। ওমর ফারুক চৌধুরী গত পরশু ডেকে আমাদের নৌকার জন্য কাজ করার জন্য বলেছেন আমরা একমত হয়েছি। আমরা নৌকার জন্য কাজ করবো। আমাদের মাঝে কোন বিভেদ নাই।

জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান রবু মিয়া বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামান গোদাগাড়ী-তানোর হতে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় নেতা হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে আমরা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছি। শেখ মুজিবুরের জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন হতো না তেমনি ভাবে বলবো শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বাংলাদেশ উন্নত হতো না। আমাদের মাঝে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব নাই। আমাদের ওমর ফারুক চৌধুরীকে জয়ী করে দেখিয়ে দিতে চাই যে আমরা এক আছি, আমরা জয়ী হয়েছি।

গোদাগাড়ী পৌর মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, বিজয়ের মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর নৌকার মাঝি ওমর ফারুক চৌধুরীকে বিজয়ী দেখতে চাই। আমরা নিজে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলাম। শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে বলেছিলেন নৌকা যাকে দিবো তার সাথে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা দু হাত তুলে কথা দিয়েছিলাম যাকে মনোনয়ন দিবে তার জন্য কাজ করব। আমাদের মধ্যে দ্বন্দ থাকতে পারে কিন্তু নৌকার সাথে বেইমানি করতে পারব না। আমাদের মাঝে আর কোন দ্বন্দ্ব নেই আমরা সবাই এক এখন হতে আমরা নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করব। আমাদের ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করে দিবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে অব্যহত রাখতে নৌকার ভোট দেবার আহবান জানান।

মুন্ডমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। এই দলের একজন প্রার্থী ছিলাম আমি।কিন্তু কখনই নৌকার বাইরে ছিলাম না। আমরা নৌকার পালে হাওয়া দিতে শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করছে তা অব্যহত রাখতে আমরা নৌকাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ আছি। শেখ হাসিনা আমাদের গণভবনে ডেকে বলেছেন, আমি যাকে নৌকা দেব তার জন্য কাজ করতে হবে। আমরা সেদিনই শপথ নিয়েছিলাম নৌকার সাথেই থাকব। আমরা বঙ্গবন্ধুর কণ্যার উন্নয়ন যে ভাবে বাংলাদেশে হচ্ছে তা আমাদের বিস্ময়। আমরা নৌকার জন্য কাজ করব আমরা সবাই নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য ৩০ ডিসেম্বরের ফারুক ভয়ের নৌকাকে বিজয়ী করব। জঙ্গিবাদের নেতা ব্যারিষ্টার আমিনুল হককে এখানে বিজয়ী হতে দেব না।

এ্যাড. আব্দুল ওহাব জেমস বলেন, আমি মনোনিয়ন প্রত্যাশি ছিলাম, আমরা নৌকার লোক। শেখ হাসিনার সৈনিক ।তাই আর দূরে নই এখন হতেই নৌকাকে জয়ী করার জন্য মাঠে নেমে পড়ব।

ওয়ার্কাস পার্টির মনোনয়ন প্রাত্যাশি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল বলেন, আমি ১৪ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলাম। জোটের সিন্ধান্তে আমি সরে দাঁড়িয়েছি। বংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ সরকার চলছে। আগামী দিনে সাম্প্রদায়িক লড়াই চলছে আমাদের টিকে থাকতে হবে। গোদাগাড়ী তানোরের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীকে জয়ী করতে হবে। বাংলাভায়ের পেতাত্বা ব্যারিষ্টার আমিনুল হক রাজশাহীতে জঙ্গীবাদের উত্থান করেছে। তাকে বয়কট করে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে।

পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন, গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বদিউজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ জেল, উপজেলা , পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন হতে আগত অনেক নেতৃবৃদ্ধ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করে পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম।

SHARE