শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে প্রতিমা শিল্পীরা

180

স্টাফ রিপোর্টার : হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র দশদিন বাকি। দীর্ঘ চার মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এখন শেষ মুহূর্তে রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমাদের রঙিন করে তুলছেন কারিগররা। শিল্পীর সুনিপুণ দক্ষতায় তাতে জীবন্ত হয়ে উঠবে প্রতিমাগুলো।
নগরীর আলুপট্টি, সাগরপাড়া, গণকপাড়ায় ঘুরে দেখা, নগরীর বিভিন্ন কারখানায় শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।
শুরুতেই শিল্পীরা কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব গড়ে তোলেন। তারপর তা রোদে শুকিয়ে নেন। রোদে শুকানো শেষে সাদা রং দেওয়া হয় উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য। তারপর শুরু হয় অন্য রঙের সহায়তায় রাঙিয়ে তোলার কাজ। লাল, নীল, সবুজ হলুদসহ বিভিন্ন রঙের আঁচড়ে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেন প্রতিমার জীবন্ত রূপ। পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার দূর্গাপূজা শুরু হবে। সেদিন ষষ্ঠী। এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে রাজশাহীর প্রতিটি পূজাম-পে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, ‘প্রতিটি পূজা ম-পে পূজা উদযাপনের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়ে গেছে। এবছর রাজশাহী জেলায় মোট ৪৫২টি পূজা ম-প থাকবে যার মধ্যে রাজশাহী সিটি কপোরেশন এলাকায় থাকবে মোট ৮০ টি ম-প। গতকাল বুধবার নগরীর বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির শিল্পীদেও সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রতিমা দীর্ঘ চার মাস ধরে তারা তৈরি করেছেন। এখন সাদা রং শুকিয়ে বিভিন্ন রং তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মূর্তির নাক, মুখ, চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ। এর পরে শুরু হবে পোশাক পরিচ্ছেদ পরানোর কাজ।
নগরীর আলুপট্টি এলাকায় কার্তিক পালের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, গোটা কারখানাজুড়ে কোনো প্রতিমা শুকানো হচ্ছে। কোনো প্রতিমাতে সাদা রং দেওয়া হচ্ছে। কোনোটা চলছে রং ছোঁয়ানোর কাজ। কেউ ব্যস্ত ডেকোরেশন নিয়ে।
কার্তিক পাল জানান, ‘চার মাস ধরে আমরা কাজ করছি। এই প্রতিমা তৈরিতে পাট, খড়, ধানের কুড়া, বাঁশ, কাঠ ও মেডিসিনসহ বিভিন্ন উপকরণ লাগে। এবছর ২৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। সকল প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন শুধু রং ছোঁয়ানো বাকি। এবার ছোট প্রতিমাগুলো ২২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বড় প্রতিমা ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়েছে।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিমা তৈরির উপকরণগুলো সংগ্রহ করতে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ এবার প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ২০ হাজার আঁটি খড় এবং অনেক কাঠ প্রয়োজন হয়েছিলো। এই সামগ্রীগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাড়া করে আনতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় গাড়ি দিয়ে উপকরণ নিয়ে যেতে ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। অথচ এর কোনো সুষ্ঠু সমাধান নেই। আমরা এর একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই। আর পূজার আগে সরকারের পক্ষ থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে ব্যবসা পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হতো।
কারিগর শ্রী সুশীল কুমার পাল জানান, ‘দীর্ঘ চার মাস আগে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন রকমের ডিজাইনে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি এখন শুধু রং ছোঁয়ানোর কাজ বাকি রয়েছে। এবার আমি ১৮ টা প্রতিমার তৈরির কাজ পেয়েছি।
তিনি আরো জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত আছি। নিজের সবটুকু সাধ্য নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করি। সরকারিভাবে এই সময় আমাদের ঋণের ব্যবস্থা থাকলে সকল কারিগরদের ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ হতো। অর্ডার নেওয়ার সময় সামান্য কিছু টাকা বায়না দেয় পূজা ম-প থেকে। কিন্তু প্রতিমা কার্যক্রমের সকল কাজ শেষ করতে কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। এই টাকা আমাদের ধারসহ বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করতে হয় যা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।

SHARE