বরেন্দ্র অঞ্চলে খরার কবলে আমন

230

স্টাফ রিপোর্টার : এবার খরার কবলে পড়েছে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের আমন আবাদ। বৃষ্টি না হওয়ায় বৃষ্টি নির্ভর আমন আবাদ শেষ সময়ে এসে হুমকির মুখে পড়েছে। টানা দুই সপ্তাহের বেশী সময় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমনের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে ক্ষেতের ধান বাঁচানো এখন দায় হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকের।

এ অবস্থায় কেউ কেই পুকুর, ডোবা নালার পানি সেচ দিয়ে কোন রকমে ধান বাচানোর চেষ্টা করছেন। তবে রোদের তীব্রতায় মুহুর্তেই মাঠ শুকিয়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন সহসা বৃষ্টিপাত না হলে এ অঞ্চলের আমন আবাদ এবার চরম হুমকির মুখে পড়বে। অনেক কষ্টার্জিত ফসল ক্ষেতেই বিনষ্ট হয়ে যাবে।

এ অবস্থায় ক্ষেতের ধান বাচাতে বৃষ্টির পানির জন্য এস্তেস্কার নামাজ ও দোয়া করার উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষকরা। আগামী মঙ্গলবার থেকে তিনদিন মুন্ডুমালা কলেজ মাঠে বৃষ্টি কামনা করে নাজাজ আদায় করা হবে। এতে কৃষক ছাড়াও এলাকার সব মানুষকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুসলিমদের এ নামাজে শরিক হতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য এক যোগে নামাজ আদায় করা হবে।

তানোরের মুন্ডুমালা এলাকার কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, চলতি বছর অতিরিক্ত খরার কবলে বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধান পুড়ে যাচ্ছে। ক্ষেতে এখন বৃষ্টির প্রয়োজন। তাই এলাকার কৃষকরা বৃষ্টির চেয়ে দোয়া ও এস্তেস্কার নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নামাজে বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল কৃষক ও এলাকার সর্বসাধারণদের শরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হচ্ছে ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি। শুধু রাজশাহী জেলায় এবার আমন ধান চাষ হচ্ছে ৭৩ হাজার ৩৮৭ হেক্টরের বেশী জমিতে। এখন ধানের থোড় হওয়ার সময়। জমিতে সেচের প্রয়োজন। তবে বরেন্দ্র অঞ্চলের উচু এলাকায় খরার কারনে মাটি ফেটে যাচ্ছে। অনেকে সেচ দিয়ে ধান বাচানোর চেষ্টা করছেন। তবে যেসব এলাকায় গভীর নলকূপ নেই সে এলাকার কৃষকরা শঙ্কার পড়েছেন।

সরেজমিন তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা কিছু এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ আর মাঠ সবুজে সমারহ। কিছু ক্ষেতে কৃষকেরা গভীর নলকূপের সেচ দিলেও উঁচু জমিগুলো ধানের মধ্যেই ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সবুজ পাতাগুলো বৃষ্টির অভাবে মরে যেতে শুরু করেছে।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন চাষাবাদটি মুলত বর্ষা পানির উপর নির্ভর। অনেক উঁচু জমিতেও কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকে। গত ২৫ দিন ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপানির দেখা নাই। অঞ্চল ভেদে যেটুকু হয়েছে তাও সামান্য। বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেতে আমন এখন ভরা যৌবনে আছে। এখন একটি বৃষ্টির খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। সময়মত বৃষ্টি না হলে ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে।

SHARE