বাগমারায় আ’লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা,পাল্টা হামলায় নিহত-১

118

বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক চরমপন্থি ক্যাডারের ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। তার নাম চঞ্চল কুমার (৩০)। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। চঞ্চলের বাড়ি তাহেরপুর পৌরসভা জেলেপাড়া মহল্লায়। তার বাবার নাম মৃত নরেন্দ্র কুমার। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন পেয়েছেন সাংসদ এনামুল হক। আগ থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ গতকাল শনিবার সকালে আ’লীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী নিয়ে জামগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে বসে নির্বাচনী আলোচনা করছিলেন। মেয়র আবুল কালাম আজাদ ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এসময় বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে সাংসদ এনামুল হকের সমর্থক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুলবর রহমান মুঠোফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে মেয়রের লোকজন তাঁর কাছে এই বিষয়ে জানতে চান। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মেয়রের লোকজন শিক্ষক গুলবর রহমানকে মারপিট করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তাহেরপুর বাজারে মেয়রের সমর্থক আওয়ামী লীগ কর্মী চঞ্চল কুমারের ওপর পাল্টা আক্রমন করেন। এসময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী চঞ্চল কুমার আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার মৃত্যু হয়। প্রতিপক্ষের হামলায় কাউছার হোসেন (৪৫) নামের আরেকজন শিক্ষকও আহত হন। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়রের নেতৃত্বে বিপুল পরিমান লোকজন তাহেরপুর বাজারে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে মেয়রের লোকজনের সামনে সাংসদের লোকজন টিকতে না পেরে পিছু হটে যায়। এসময় বিপুল পরিমান পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মেয়র আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনে সাংসদ এনামুলের লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় তাঁর লোকজনের ওপর হামলা করেছে। আ’লীগ কর্মী চঞ্চল কুমারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার করা হয়েছে। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য চরমপন্থী ক্যাডারের নেতৃত্বে কিছু সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা করে হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। শিক্ষক গুলবর রহমানের ওপর হামলার বিষয়ে বলেন, গোপনে ভিডিও ধারণ করা নিয়ে তাঁর লোকজনের সঙ্গে শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা হয়েছে মাত্র। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আর্ট বাবুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বাক্কার মৃধা মুনসুর রহমান বলেন, দলে গ্রুপিং থাকলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই এক সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর্ট বাবুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলার বষিয় জানতে চাইল বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ গণধ্বনি প্রতনিকিে বলেন, গত পাঁচ বছর যাবৎ তার বরিুদ্ধে থানা কোন মামলা নাই। বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

SHARE