স্বামীকে তালাকের পর ২৬ দিন শিকলে বন্দি মাহফুজা

122

গণধ্বনি ডেস্ক : স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বছর দুয়েক আগে তাকে তালাক দেন মাহফুজা আক্তার মুন্নি। এরপরও রেহাই পাননি তিনি। স্বামী সোলায়মান তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে শিকল পরিয়ে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখেন। ২৬ দিন পর শিকলবন্দি মাহফুজাকে শুক্রবার দুপুরে পৌর এলাকার জামসিং সোলায়মান মার্কেট মহল্লার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় সোলায়মান পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার ছেলে ও এক ভাইকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে এদিন সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

মাহফুজা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সোলায়মান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। ছেলেকে বিয়েও করিয়েছেন। এরপরও স্বামীর নির্যাতন কমেনি বরং দিনদিন আরও বাড়ছে। তিন বছর আগে তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। এসবের পরও সন্তানদের মুখের দিয়ে তাকিয়ে সংসার ছাড়তে চাননি। এক পর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে বছর দুয়েক আগে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য হন তিনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তালাকের দীর্ঘদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় মাহফুজার। গত ৪ নভেম্বর তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এ খবরে ওই মাহফুজাকে জোরপূর্বক ধরে এনে বাড়ির একটি কক্ষে খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে স্বামী ও ছেলে। ঘটনাটি আশপাশের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে শুক্রবার তারা স্থানীয় সাংবাদিকসহ পুলিশকে খবর দেয়। দুপুরের দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

অবশ্য ওই নারীর ছেলে আটক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ বলেছে, মা সম্পর্কে এলাকাবাসী খারাপ মন্তব্য করায় তাকে ধরে এনে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে, যাতে সে বাইরে যেতে না পারে। নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।

সাভার মডেল থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, ঘটনাটি অমানবিক। পারিবারিক কলহের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। ওই নারী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার মূল নায়ক স্বামী সোলায়মানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

SHARE