রাজশাহী অঞ্চলের ভোটের মাঠে থাকছে জামায়াত

156

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলের ভোটের মাঠে এখনো রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি এখনো বৃহত্তর রাজশাহীর ১৫ আসনের একটিও ছাড়েনি জামায়াতকে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসন নিয়ে হয়নি ভাগাভাগির আলোচনা। তবে নিবন্ধন হারানো দলটির ৬ প্রার্থী স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন। এদের অন্তত: তিন জনকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চাইছে জামায়াত। এ নিয়ে জোটের সাথে চলছে শেষ পর্যায়ের হিসেব-নিকেশ।

জামায়াত নেতারা বলছেন, এখন পর্যন্ত যে ২৫টি আসন বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে তার একটিও নেই এই রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। অথচ এই অঞ্চলে রয়েছে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান। এই অঞ্চলে নিজস্ব ভোট ব্যাংকও রয়েছে তাদের।

এই এলাকায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এখন নানান কারণে কোনঠাসা জামায়াত। তাই এই নির্বাচন নিয়েছে অস্বিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে। এতে এই অঞ্চলের অন্তত: তিনটি আসন চেয়েছে দলটি। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে জোটের মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র হয়ে লড়বেন জামায়াতের প্রার্থী।

জানা গেছে, রাজশাহী -১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দুই মেয়াদে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। এখানেও রয়েছে জামায়াতের নিজস্ব ভোটব্যাংক।
এবারের সংসদ নির্বাচনে জোটের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলটির সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ব্যরিস্টার আমিনুল হক। হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও আমিনুল হকের মধ্যে যে কোন একজন প্রার্থী হবেন জোট কিংবা ঐক্যফ্রন্টের। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দুই বারের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর।

জোটের মনোনয়ন লড়াই তুঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনেও। এখানে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন দলটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ রয়েছেন তার জোট প্রতিদ্বন্দ্বি। এই দুজনের একজন মুখোমুখি হবেন বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদের। এমপি আবদুল ওয়াদুদ হারুনুর রশীদের চাচাতো ভাই।

জামায়াত নেতারা বলছেন, জেলা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক লতিফুর রহমান। এখানকার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদ জামায়াতের দখলে। চার মেয়াদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়রও ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। এখানেও রয়েছে দলটির বিশাল ভোটক্যাংক। তাছাড়া প্রার্থী হিসেবে নুরুল ইসলাম বুলবুল অনেক বেশি শক্তিশালী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনেও শাক্তিশালী অবস্থান জামায়াতের। ১৯৮৬ এই আসনটিতে তৎকালীন জেলা আমীর মীম ওবাইদুল্লাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নাচোল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নাচোল পৌর মেয়র ছিলেন জামায়াতের। বর্তমানে গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদও রয়েছে জামায়াতের দখলে। এই আসনে এবার জামায়াতের প্রার্থী দলটির জেলার সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াতের নেতারা বলছেন, এছাড়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. কেরামত আলী। তবে বাকি দুটি আসনের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সদর আসন নিয়ে এখনো চুড়ান্ত সীদ্ধান্ত হয়নি। এই আসনটি কোন মতেই বিএনপিকে ছাড় দেবেনা জামায়াত।

এর বাইরে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও কাটাখালি পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে জেলার সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ, নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নিতলা) আসনে ধামইরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন এবং নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে পূর্ব জেলা জামায়তের আমীর মাওলানা আখম আব্দুর রাকিব এখনো রয়েছে ভোটের মাঠে।

জামায়াতের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতের নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় চুড়ান্ত। এখন কেবল জোটের সাথে আসন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে চান। শিগগিরই জোটের বৈঠকেই আসন ভাগাভাগির চুড়ান্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, দলীয় সীদ্ধান্ত হয়েছে, কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে নির্বাচন করবেন তিনি। এই আসনটি ভাগাভাগি এখনো চুড়ান্ত করেনি জোট। এই আসনে জামায়ের প্রার্থী তিনি নিজেই। জোটের সমর্থন না পেলেও তিনি লড়বেন সতন্ত্র হয়ে। আর এমনটি হলে পুরো অঞ্চলে জোটের ভোটে প্রভাব পড়বে।

তবে জোটের প্রার্থীতা প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দেশের মানুষ চায় অবৈধ সরকারের বিদায়, সৈর শাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।

মিনু আরো বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণ সংঘবদ্ধ হয়েছে আজ। এই সুদৃঢ় ঐক্যই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায় বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট। আর এ জন্য হাইকমান্ডের যে কোন সীদ্ধান্ত মেনে নেবেন বিএনপির প্রার্থীরা।

SHARE