দুই মেধাবীর স্বপ্ন পূরণ করলেন রাবি ছাত্রলীগ নেতা

176

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছিলেন না মেধাবী দুই শিক্ষার্থী মজমুল ইসলাম আপন ও হাফেজ সওদাগর। আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থমকে গিয়েছিল তাদের। কিন্তু তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসান। তার সহায়তায় অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আপন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিভাগে হফেজ ভর্তি হন। জানা গেছে, মজমুল ইসলাম আপন রংপুর জেলার কোতায়ালি থানার মটুকপুর গ্র্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। অর্থাভাবে ভর্তি কোচিং করতে পারেনি। বাবা একজন কৃষক ছিলেন। কিন্তু বার্ধ্যক্যের কারণে বর্তমানে কাজ করতে পারে না। আপন এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩০ তম, ‘বি’ ইউনিটে ১৮২ তম এবং ‘ই’ ইউনিটে ৩২ তম হয়েছে। অন্যদিকে হাফেজ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামের হরমুজ সওদাগরের দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে হাফেজ তৃতীয়। সে স্থানীয় কালিয়া কান্দাপাড়া উচ্চ-বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষাতেও সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এ বছর রাবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে মেধাতালিকায় ২৩৭তম ও ‘ই’ ইউনিটে ৩০২তম স্থান অর্জন করে হাফেজ। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিল না। হাফেজের বিষয়টি গণমাধ্যমে ও আপনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তা এহসান মাহফুজের নজরে আসে। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভর্তি সকল ব্যবস্থা করে দেন তিনি। জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান এহসান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর তাদরে সঙ্গে যোগাযোগ করি। সোমবার (২৬ নভেম্বর) আপন ও হাফেজকে সাথে নিয়ে তাদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। এছাড়াও তাদের ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপন ও হাফেজের মত অদম্য মেধাবীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। একটু সহযোগিতা পেলেই তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এসব অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। আপন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যে টাকা লাগবে তা আমার পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব ছিল না। ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করেছিলাম বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি করে। এহসান ভাই আমার ভর্তি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমনকি ক্যাম্পাসে গিয়ে থাকাসহ পড়াশোনার সব রকমের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ হাফেজ বলেন, ‘এহসান ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই। তিনি অনেক ভালো মানুষ। ভাই আমার পাঁশে না দাঁড়ালে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হতো না। তিনি আমার পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন।’

SHARE