সিইসির পরিবর্তন চাইলেন ড. কামাল

160

গণধ্বনি ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আবারও অনাস্থা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পরিবর্তন চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা তো কথা বলার (প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের) আগেই বলেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনকে রিমুভ বা রিপ্লেস করান। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেও সন্তুষ্ট নই। এজন্য আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন চাই। আমাদের দাবি হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে আমাদের মত পরিবর্তন করতেও পারি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে রবিবার বিকালে গণফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি ও গ্রেফতার, নির্বাচনে লেভেল প্লে­য়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, কুড়িগ্রাম আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিন এবং একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। ড. কামাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি এখন যা করছেন তা কি আদিষ্ট হয়ে করছেন? কেন আপনি কি যুক্তিসঙ্গত কারণে লোকদের ধরাচ্ছেন? সে ব্যাপারে তথ্য সহকারে বলেন। নাকি সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন? যদি তা হয় আমরা যা করার করব। যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয় আমরা হাইকোর্টে যাব। তিনি আরো বলেন, আপনার ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আগে যা করেছেন তা ভুলে যেতে চাই। এখন নিরপেক্ষ হোন। ড. কামাল আরো বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিরপেক্ষ হচ্ছে না। তাই তার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক। আর তা না হলে যা করার তাই করা হবে। এখন থেকে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সরকারকে নিতে হবে। তা না হলে কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ড. কামাল আরো বলেন, আমি এখনও আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে। তবে এখন দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা রিলাইবেল না। অনেক দেশে এজন্য এ পদ্ধতিতে ভোট দেয়া বাদ দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে সব দলই বাদ দিতে বলেছে। লিখিত বক্তব্যে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন ও সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এরপরও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের প্রশাসন আইন-শৃংখলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি কর্তৃত্বেও মধ্যে থাকলেও নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবে তাদেরকেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় গ্রেফতার করা হচ্ছে, মামলা দেয়া হচ্ছে। উক্ত ব্যক্তিরা যাতে স্বল্প সময়ে জামিন পেতে না পারে,বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে সরকারি দলের প্রার্থী ও মন্ত্রীরা দাপটের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচার ও ভোটারদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন তাদের প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’ গণফোরামে নতুন যোগ দেওয়া আমসা আমিন বলেন, আমার রাজনীতিতে আসার মূল কারণ কুড়িগ্রামের মানুষ। আমি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতাম। ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হেরে গেছি। আমি এখন মনে করছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে আমি আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ করতে পারবো। রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশের অবস্থার খুবই খারাপ। এর থেকে জনগণকে একমাত্র ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বই মুক্তি দিতে পারে। দেশকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় সে ব্যাপারে কাজ করতে তিনি গণফোরামে যোগ দিয়েছেন বলেও জানান। একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, আজ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামের সদস্য হিসেবে যোগ দিলাম। আজ থেকে আমার নেতা ড. কামাল হোসেন।

SHARE