চীনে অন-অ্যারাইভাল ভিসা

156

চীন বাংলাদেশের একটি প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও বিশাল। ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণকারীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে পর্যটনে আগ্রহীদের সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা ছিল ভিসাপ্রাপ্তি। সেই বাধাও এবার অনেকটাই কমে গেল চীনে পোর্ট ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু করার ফলে। অন্যান্য দেশের মতো শর্ত সাপেক্ষে এই সুবিধা এখন থেকে বাংলাদেশিরাও পাবেন। নিঃসন্দেহে এটি দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিমানবন্দর থেকেই এই অন-অ্যারাইভাল বা আগমনী ভিসা দেওয়া হবে। ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়। এসংক্রান্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়, মানবিক কারণে চীনে জরুরি প্রবেশ, আমন্ত্রণের ভিত্তিতে জরুরি বাণিজ্যিক কাজে আসা, প্রকল্পের মেরামত বা অন্য জরুরি কাজে চীনে আসা এবং পর্যটন এজেন্সির মাধ্যমে চীন ভ্রমণে আগ্রহী বিদেশিদের সুবিধার্থে এই ভিসা চালু করা হয়েছে। তবে এটি প্রচলিত ভিসাব্যবস্থার বিকল্প নয়। সাধারণভাবে ভিসা পেতে কিছুটা সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভ্রমণ এত জরুরি হয়ে পড়ে, যখন সাধারণ ভিসার জন্য অপেক্ষা করার সময় থাকে না। এমন সব ক্ষেত্রেই এই ভিসা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য এখনো অনেকটা একমুখী। চীন থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ পণ্য আসে, যায় সে তুলনায় অতি সামান্য। চীনের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের চীনা বাজারের গতি-প্রকৃতি, চাহিদার ধরন কিংবা প্রতিকূলতাগুলো জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য চীনের বাজার অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করতে হবে। চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদের পরামর্শ নিতে হবে। যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খুঁজতে হবে। আর এ কাজগুলো করতে হলে চীনে ভ্রমণ করা অনেক সময়ই জরুরি হয়ে দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সামনে বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে।

আমরা চাই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক উত্তরোত্তর আরো দৃঢ় হবে ও এগিয়ে যাবে এবং এই সম্পর্কের মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ ভিসা কিভাবে আরো সহজ করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগও আরো সম্প্রসারিত করতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এই সুযোগের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হবে।

SHARE