‘সম্ভাব্য প্রার্থী’ নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচনায় আওয়ামী লীগ

151

অনলাইন ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে আসা প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কক্সবাজারে সমালোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার অভিযোগে কারাগারে থাকা সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে না দিয়ে তার বাবাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

দলটির সাধারণ সম্পাদকের এমন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দুই প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘেঁটে ও আওয়ামী লীগের একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের মনোনয়ন পেয়েছেন- এমন দাবি করে মিষ্টি বিতরণ করেছেন অনেক প্রার্থী। মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে মনোনয়ন পাওয়ার কথা প্রকাশ করছেন বর্তমান সংসদ সদস্যদের অনেকে।

জানা গেছে, ওই সব আসনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকেই বর্তমান সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। প্রকাশ্যে কিছু বলতে না পারলেও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত বর্তমান সংসদ সদস্যদের পুনরায় মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয়ভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা।

তাদের দাবি অনুযায়ী, যারা বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে আলোচনা-সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাদের দূরত্ব রয়েছে- এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে বলা হয়েছিল। অথচ স্থানীয়ভাবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে আলোচনায় আসা প্রার্থীদের নিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

জনপ্রিয়তা, গণসম্পৃক্ততা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে মনোনয়ন দেয়া হবে- আওয়ামী লীগের এমন নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, দাবি তৃণমূলের ওই সব নেতাকর্মীর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত নিজাম উদ্দিন হাজারী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন- এমন দাবি করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ফুলগাজী উপজেলার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান একরাম হত্যায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকেই আবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলে লাভ নেই, নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন আমাদের তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।

বরগুনা-২ আসনে সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন। এবারও তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে- দাবি করে তিনিও নিজ এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন। এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তিনি রাজাকারের ছেলে। ওই অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে শুরু থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

এলাকায় মিষ্টি বিতরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘নেত্রীর ঘোষণার আগে মিষ্টি বিতরণ করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তিনি। মনে হয়েছে, তিনি নিজেই মনোনয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। বর্তমান সংসদ সদস্য রাজাকারের ছেলে, তার জনপ্রিয়তা নেই। বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারী ওরা। আমি নেত্রীকে বলেছি, রাজাকারের ছেলেকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় আলোচনায় থাকা দুই প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাদেক খানের মনোনয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের বেশ কয়েকজনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় তারাও মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই চলছে। নানা দিক বিবেচনায় কেউ কেউ বাদ পড়ছেন, আবার যুক্তও হচ্ছেন। ঘোষণার আগে কাউকেই চূড়ান্ত বলা যাবে না।’

SHARE