ভাইয়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ ভাই, স্বামীর স্ত্রী!

199

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ভাইয়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ ভাই এবং স্বামীর ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ হয়েছেন স্ত্রী। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, এটা তাদের নির্বাচনি কৌশল। মনোনয়ন পেলেও তা বাতিলের আশঙ্কায় দুই নেতা তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মনোনয়ন তুলিয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এ আসনে তার স্ত্রী আভা হকের নামেও মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে। অথচ অতীতে আভাকে কোনো দিন রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সিরাজুল করিম সনু। তার ছোট ভাই দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা হাসান ফারুক ইমাম সুমনও দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও সিরাজুল করিম সনুর বিরুদ্ধে মামলা আছে। দলীয় মনোনয়ন পেলেও কোনো কারণে নির্বাচন কমিশনে তাদের প্রার্থিতা বাতিলও হয়ে যেতে পারে। তাই কোনো ঝুঁকি না নিতে তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে মনোনয়ন ফরম তুলিয়েছেন। তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সিরাজুল করিম।

তার বক্তব্য, তিনি এ নীতিতে বিশ্বাসী নন। ছোট ভাই মনোনয়ন তুললেও তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। পরে সুমন তাকে জানিয়েছেন। সুমন মনোনয়ন ফরম তুলবেন জানলে তিনি তুলতেন না। এখন ভাইকে প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবছেন কি না, জানতে চাইলে সিরাজুল করিম বলেন, ব্যাপারটি আসলে তেমন নয়। রাজনীতি একটা স্বাধীন জিনিস, সুমনের হয়তো সামনে পরিকল্পনা আছে। তাই সে মনোনয়ন তুলেছে।

এদিকে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সঙ্গে তার স্ত্রীর মনোনয়ন ফরম তোলাকে একটা নির্বাচনি কৌশল হিসেবেই দেখছেন এলাকার ভোটাররা। এ নিয়ে সমালোচনাও চলছে। ‘তানোর-গোদাগাড়ী’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও তার স্ত্রী আভা হকের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘তানোর-গোদাগাড়ীতে বিএনপির পরিবারতন্ত্র মনোনয়ন!’

এ নিয়ে কথা বলতে ব্যারিস্টার আমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক তার একান্ত সহকারির মাধ্যমে স্ত্রী আভা হকের নামেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দেন। কোন কারণে ব্যারিস্টার আমিনুল হক নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ব্যারিস্টার আমিনুল হক রাজশাহী-১ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সাল টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হন মন্ত্রীও। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদদানসহ নানা অভিযোগে ১৯টি মামলা হয়। তখন তিনি আত্মগোপন করেন। তাই নবম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন তার ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল হক। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

SHARE