বন্ধ হচ্ছে না পলিথিনের ব্যবহার ১০ মাসে নয় টন উদ্ধার

153

স্টাফ রিপোর্টার : পলিথিন। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য এই দুয়ের মারাত্মক ক্ষতি করে। তার পরেও থেমে নেই পলিথিনের ব্যবহার। এনিয়ে পরিবেশ ও প্রশাসন মাঝে মধ্যে নড়েচড়ে বসলেও তেমন কাজে আসে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ক্রেতা-বিক্রেতার অভিযোগ, পাটের ব্যাগের দাম বেশি। পাটের ব্যাগ সব জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে পলিথিন ব্যবহার করছেন। তার পরেও পলিথিন ব্যাগের দাম আগের তুলনায় দামে বেশি ও ব্যবহারও বাড়ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)‘র রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ম্যানেজার তন্ময় কুমার সান্যাল জানায়, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে পলিথিন। পলিথিন এমন একটি বস্তু, যা পচনশীল নয়। পলিথিন দীর্ঘদিনেও পচে না। পলিথিন পোড়ানো হলে পরিবেশ দুষণ করে। এছাড়া পলিথিনের কারণে ড্রেনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পলিথিন বন্ধ হলে পাট জাত দ্রব্যের কদর বাড়বে। এর ফলে পাটের সুদিন ফিরে আসবে। পাট পচনশীল হওয়ায় পরিবেশের তেমন ক্ষতি হবে না।
বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবু বলেন, পলিথিন যদি ৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপে পোড়ানো হয় তাহলে ‘ডায়ক্সিন’ নামক বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এই গ্যাস ক্যানসার এবং চর্ম রোগের অন্যতম কারণ।
তিনি আরো বলেন, পলিথিন দিয়ে মোড়ানো মাছ, গোশত এবং শাকসবজিসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী খুব সহজেই ‘অ্যানায়রোবিক’ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে চর্মরোগ এবং ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম কারণ। এছাড়া এলার্জি, ফুসফুসে ক্যান্সার, স্কিন ক্যান্সার হয়ে থাকে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের ১২ পর্যন্ত রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৯ টন পলিথিন উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে রাজশাহী জেলা পরিবশে অধিদফতর উপপরিচালক মামুন-অর-রশিদ জানান।
এদিকে সরকার ২০০২ সালে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬ (ক) ধারাটি সংযোজন করা হয়। আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রি উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তাহলে ১০ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দ- হতে পারে।
পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি পলিথিনের ব্যবহার। তবে বিকল্প হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে পাটের ছোট ব্যাগ ও বস্তার কাজে চট ব্যবহারের কথা থাকলেও দামে বেশি হওয়ার কারণে পাত্তা পাইনি বাজারে। তাই বাজারে বিভিন্ন পণ্যর সঙ্গে দেয়া হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ।
রাজশাহী নগরীর দোকানগুলো চলছে হরহামেশায় পলিথিনের ব্যবহার। ক্রেতাদের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে দেয়া হচ্ছে পলিথিন। শুধু তাই নয়, দোকানের বিভিন্ন খাবার যেমন, বিস্কুট, চানাচুরসহ বিভিন্ন জিনিস পলিথিনের প্যাকেটে রাখা হচ্ছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা রাজু জানায়, অল্প দাম আর টেকসই। তাই পলিথিনের ব্যবহার বেশি। বৃষ্টির দিনে কাগজের ঠোঙ্গা ব্যবহার করা যায় না। তখন পলিথিন ব্যবহার করেন তারা। এছাড়া কাগজের ঠোঙ্গার দামও বেশি। তাই তারা পলিথিন ব্যবহার করেন।
বেসরকারি কলেজের শিক্ষক সাদি জানায়, খুব সহজেই পলিথিনমুক্ত করা যেতো। কারণ সবাই চায় পলিথিন মুক্ত হোক। আইনও আছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন কেন এ আইন প্রয়োগ করছে না- সেটি বোধগম্য নয়। পলিথিনের বিপরীতে দেশি পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা যায়। এতে কৃষকেরও লাভ হয়। এখন অনেক দোকান আছে, যেখানে কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো বলেন, শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই পলিথিনের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব। এজন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরকে দোষারোপ করতেই পারি। কারণ তারা অ্যাকশনে যাচ্ছে না।

SHARE