যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ, শাশুড়ি গ্রেফতার

21

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন ও চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে মহারাজুপুর ইউনিয়নের পিয়নপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় স্বামী রবিউল ইসলাম, শ্বশুর ইসরাফিল শেখ ও শাশুড়ি জাইলি বেগমকে আসামি করে বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ। পুলিশ শাশুড়ি জাইলি বেগমকে গ্রেফতার করলেও স্বামী রবিউল ও শ্বশুর ইসরাফিল শেখ পলাতক।

মামলার নথি, নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সম্মতিতে পাঁচ বছর আগে একই গ্রামের রবিউলের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রবিউল ও তার পরিবার এবং নানা সময়ে চাপ দিতে থাকে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ৫০ হাজার টাকা দেয় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার। কিন্তু বাকি টাকার জন্য বিভিন্ন সময় স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে স্বামী রবিউল।

নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, বিভিন্ন সময়ে রাতে মাদকাসক্ত হয়ে বাসায় ফিরে নানা অজুহাতে টাকার দাবিতে তাকে মারধর করতো রবিউল। নির্যাতনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাবার বাড়িতে ছিলেন। গত বুধবার শ্বশুর বাড়িতে গেলে সারাদিন কথা শোনায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও তার স্বামী। তার দিনমজুর বাবার পক্ষে যৌতুক হিসেবে দাবিকৃত বাকি দেড় লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে ওই দিন বিকালে শ্বশুর-শাশুড়ির যোগসাজসে স্বামী তাকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয়। এমন অমানবিক নির্যাতনের পর গৃহবধূ বাবার বাড়ি চলে যান এবং পরদিন বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে মামলা করেন। তিনি তার ওপর হওয়া অমানবিক এ ঘটনার বিচার চান।

গৃহবধূর বাবা এমরাজ শেখ জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করতো রবিউল। কয়েকবার মেয়েকে নিয়ে চলেও এসেছি। কিন্তু বারবার অনেক অনুরোধের পর এবং নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিলে, মেয়েকে আবার শ্বশুর বাড়িতে পাঠাই। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকাও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন আরও দেড় লাখ টাকা চায়। সেই টাকা না দিতে পারায় আমার মেয়ের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করেছে জামাই রবিউল ইসলাম ও তার বাড়ির লোকজন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

তিনি আরও জানান, তার জামাই রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। কাজ করে যা আয় করতো তার পুরোটাই গাঁজা-মদ খেয়ে শেষ করে দিতো। সংসার ও কিস্তি চালানোর জন্য বাড়িতে ফিরে আমার মেয়েকে টাকার চাপ দিতো এবং মারধর করতো।

পলাতক থাকায় রবিউল ও তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে রবিউলের মা জাইলি বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কাজ ও বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ।

SHARE