কলেজছাত্রীর মাথার চুল কেটে দেয়া আরও এক নারী আটক

11

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও আপত্তিকর ছবি তোলাসহ মাথার চুল কেটে ফেলার ভিডিও ধারণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক নারী আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত নারী রূপা (২০) এ মামলার প্রধান আসামি রায়হানের স্ত্রী। মঙ্গলবার গভীর রাতে মান্দা উপজেলার পরানপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে কলেজছাত্রীর বাবার করা মামলায় সোমবার ঝাঝিরা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলেকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

এ নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে ‘নিয়ামতপুরে কলেজছাত্রীর চুল কেটে শ্লীলতাহানি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ পায়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে ঝড় উঠে এলাকায় ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তোড়জোড় শুরু হয় প্রশাসনে। ছুটে আসে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরাও।

উল্লেখ্য, নির্যাতনের শিকার ওই কলেজছাত্রীকে রোববার কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি কক্ষে আটকে রেখে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তুলে বখাটেরা। এ সময় ওই কলেজছাত্রীর মাথার চুল কাটে এক নারী এবং চুল কাটার দৃশ্যটি ভিডিও করা হয়।

পরে কলেজছাত্রীকে ঘটনাটি কাউকে না বলার ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনাটি বললে পরদিন ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর সোমবার ঘটনার মূলহোতা রায়হানকে আটক করে পুলিশ। এরপর কলেছাত্রীর চুল কাটার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ভিডিও ফুটেজ দেখে চুলা কাটার ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই আটককৃত নারী রুপা মান্দা উপজেলার পরানপুর গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল।

নারী আসামি আটক হওয়ার পরপরই বুধবার নিয়ামতপুর থানায় ছুটে আসেন পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় মামলার পরপরই আমরা মূলহোতা রায়হানকে আটক করেছি। এরপর এক দিনের মধ্যেই অপর নারী আসামি রুপাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, আমরা সব অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

SHARE