মহাজোট সরকারের সময় বিশ্বে দেশের মর্যাদা শতগুন বৃদ্ধি পেয়েছে: বাদশা

167

স্টাফ রিপোর্টার :রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন মহাজোট সরকারের সময় দেশের উন্নয়নের যে অগ্রগতি তা যেন কোন ভাবেই ব্যহত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সর্তক থাকতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। এই সরকারের সময় বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যদা পূর্বের তুলনায় শতগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের উন্নয়ন এবং গনতন্ত্রের স্বার্থে মহাজোটের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। ফ্রন্ট সম্পর্কে বলেন খিচুড়ি মার্কা ফ্রন্ট দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ তারা সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে নির্বাচিত করবে।

মঙ্গলবার রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সৌজন্যে আইনজীবীদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সংসদ সদস্য হিসাবে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহীর উন্নয়নে তার ভূমিকা তুলে ধরে বলেন আমি যা করেছি জনগনের সামনে তার জবাবদিহিতা করেছি। রাজশাহী থেকে এর আগে যারা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউ তাদের কাজের জবাবদিহিতা করেনি। সভায় তিনি তার কর্মকান্ড নিয়ে প্রকাশিত বই সবার হাতে তুলে দিয়ে বলেন যা লিখিত ভাবে আপনাদের হাতে পৌঁছে দিলাম। আমি জনগনের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছি আমি বিশ্বাস করি জনগনের কাছে আমাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে শ্রম দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করেছি। আগামিতেও তা করে যেতে চাই। তিনি বলেন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় রাজশাহীতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, যমুনা সেতুর পাশাপাশি পৃথক রেল সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুধু এটাই নয় ইন্টার ডিস্ট্রিক রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্যও দাবি জানিয়েছি। যাতে করে পরিবহন ধর্মঘটের মত কোন সংকট দেখা দিলে মানুষ দূর্ভোগে না পড়ে। তিনি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট এবং বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন এই দুটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে রাজশাহীর মানুষ উপকৃত হবে। একদিকে পাবে স্বাস্থ্য সম্মত বিশুদ্ধ পানি অন্যদিকে তথ্য প্রযুক্তির দার খুলে যাবে। সৃষ্টি হবে কর্ম সংস্থানের। তিনি বলেন এবার আমার লক্ষ্য হবে মানুষের কর্ম সংস্থান। এর জন্য রাজশাহীতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার বিষয়টিকে অগ্রধিকার দেয়া হবে। তিনি বলেন রাজশাহী বিমান বন্দরকে আর্ন্তজাতিক হিসাবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন বিশ্বে রাজশাহী সিল্ক সিটি হিসাবে ব্র্যান্ডেড কিন্তু রাজশাহীর সেই ঐতিহ্য রেশম কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সরকারি উদ্যোগে আমি এই কারখানা চালু করেছি। তিনি বলেন বিনোদনের জন্য ঢাকার পরে রাজশাহীতে ১শ’ ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নভোথিয়েটারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন দুইবার সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের কথা ভাবেনি রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

আমার উন্নয়ন কর্মকান্ড ক্ষুদ্র পরিসরে বই আকারে তুলেও ধরেছি। আপনারা যদি আগামি নির্বাচনে আমাকে সমর্থন দেন তাহলে আমি রাজশাহীর উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেবো। তিনি রাজশাহী বারের বহুতল ভবনের প্রথম কিস্তির টাকা চলতি মাসেই বরাদ্দ হবে বলে উল্লেখ করলে সভায় উপস্থিত আইনজীবীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সভায় বক্তব্যকালে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ সংসদ সদস্যর প্রতি সর্মথন জানিয়ে আসন্ন নির্বচনে তার জন্য কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি লোকমান আলীর সভাপতিত্বে ১নং বার ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য মোঃ ইয়াহিয়া, বারের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক, সিনিয়র মোজাফ্ফর হোসেন, হামিদুল হক, মোফাজ্জল হোসেন, সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন ও রাশেদুন-নবী আহসান প্রমুখ আইনজীবী। উপস্থিত ছিলেন পিপি ইব্রাহিম হোসেন। সভা সঞ্চালন করেন এন্তাজুল হক বাবু।

এর আগে তিনি বিভিন্ন ভবনে ঘুরে ঘুরে আইনজীবীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও রাজশাহী সদর দলিল লেখক সমিতি এবং আইনজীবী সহকারীদের সাথেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় সাংসদ বাদশার সাথে মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, যুবমৈত্রীর জেলা সভাপতি মনির উদ্দিন পান্নাসহ দলের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

SHARE