গ্যাস সঙ্কট

171

পাইপলাইনে ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সারাদেশে গ্যাস সঙ্কট শুরু হয়েছে সম্প্রতি। এতে জাতীয় গ্রিডে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস-সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় তিতাস সিস্টেমেও প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ কমে গেছে। ঢাকার কয়েকটি এলাকায় রবিবার সকাল থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সঞ্চালন শুরু হয় গত অক্টোবরে। সরবরাহ শুরুর স্বল্পকালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা ছিল অপ্রত্যাশিত ও অনাকাক্সিক্ষত।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। আর এই ঘাটতি দূর করতে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে অগভীর সমুদ্র উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে ব্যবহৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদও খুব দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। সে অবস্থায় সরকার বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে অথবা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে রফতানিনির্ভর পণ্য ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য গ্যাস ব্যবহারে সবিশেষ আগ্রহী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী নিঃসন্দেহে।

উল্লেখ্য, একাধিক দেশী কোম্পানিকে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার উৎপাদনের জন্য সুযোগ-সুবিধাসহ অনুমোদন দেয়া হলেও তারা এর অপব্যবহার করেছে। মাঝখানে মিটার বসিয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ ও ব্যবহার সীমিত রাখার একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে সরকার সরে এসেছে। যা হোক, এলপি গ্যাস ও এলএনজি সিলিন্ডার সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হলে গ্যাস ব্যবহারকারীদের তা মেনে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট জ¦ালানি মন্ত্রণালয়কে বিদেশ থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ডিপো স্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থলে-জলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানও জোরদার করা চাই।

বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে এলএনজির প্রথম চালান আসার পর থেকে সার্বিকভাবে স্বস্তি নেমে এসেছিল দেশের জ¦ালানির বাজারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করেছে এক ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস। রাজধানী ও অন্যত্র অনেককাল যাবতই বিরাজ করছে কমবেশি গ্যাস সঙ্কট। সিলিন্ডার গ্যাসও দুর্লভ ও দুর্মূল্য। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত সরবরাহ তো দূরের কথা, সুলভও নয়। এ অবস্থায় দেশে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ ও প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করা সম্ভব হলে এর সামগ্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জ¦ালানি সেক্টরে। সার ও বিদ্যুত সেক্টরসহ শিল্প কলকারখানাগুলো সচল থাকবে সারা বছর। বন উজাড়সহ জ¦ালানি কাঠের ওপর চাপ কমবে। তবে এর জন্য সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ। আর সে লক্ষ্যেই সরকার ভাসমান টার্মিনাল থেকে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক বাল্বটি ৪০ মিটার পানির তলদেশের পাইপলাইনে স্থাপিত। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ছাড়া এটির মেরামত সম্ভব নয়। তাই এই কাজের জন্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সামিটের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যারা এখন মহেশখালীতে কাজ করছেন, তাঁদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের দিয়ে কাজ হলে কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় এলএনজির সরবরাহ শুরু হতে পারে। আর তা না হলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হবে। আশা করা যায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কারিগরি মানোন্নয়ন ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং জরুরী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।

SHARE