চলনবিলে হাঁসের খামার

267

নাটোর প্রতিনিধি : চলনবিল অঞ্চলে ভাসমান হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শতাধিক দারিদ্র পরিবার। এসব পরিবারের সদস্যরা বছরের পুরোটা সময় হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। মুলত হাঁস পালন ও ডিম বিক্রি করেই সংসারের অভাব-অনাটন, মৌলিক চাহিদা মেটানোসহ ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচও যোগান দেন তারা।
চলনবিলের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পরিবারের উপার্জন করেন হাস পালন করে। সিংড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অনেক পরিবার নিজ উদ্দোগে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। এরমধ্যে ডাহিয়া, আয়েশ, বিয়াশ, কালিনগর, সাতপুকুরিয়া, হিজলী, কান্তনগর গ্রামের অনেক পরিবার হাঁস পালন করে সংসার চালাচ্ছেন।
সরকারী কোন সহযোগিতা ছাড়াই এসব পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। তবে সরকারী সাহায্য-সহযোগিতা পেলে আরো ব্যাপব ভাবে তারা হাঁস পালন করে আমিষের চাহিদাসহ অর্থনৈতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কথা হয় বলিয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুল মালেকের সাথে তিনি বলেন, এনজিও থেকে লোন নিয়ে হাঁস পালন শুরু করি। কিন্ত সরকারী ভাবে কোন লোন পাইনি। তিনি জানান, হাঁস পালন করেই সংসার চালান। তার গত বছর কলেরা রোগে তার ১০০টির মতো হাঁস মরে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন তিনি। তবে বর্তমানে তার খামারে ২০৮টি হাঁস রয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে তিনি ডিম বিক্রি করে লোকসান পুষিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নাছিয়ারকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, ৬ বছর থেকে হাঁস পালন করে আসছি। বর্তমানে ৪০০টি হাঁস রয়েছে তার খামারে। হাঁস পালন করে জীবিকা র্নিবাহের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ যোগান দিচ্ছেন তিনি।
কালিনগর গ্রামের আলেফ বলেন, প্রায় ১৫ বছর থেকে হাঁস পালন করে আসছি। এটি একটি লাভ জনক ব্যবসা। তার খামারে ৭০০টি হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ টি ডিম বিক্রি করেন তিনি। ডিমগুলো ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
আলেফ বলেন, সারা বছর হাঁস পালন করে খাবার মেটানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ভাবে খামার করে হাসগুলো প্রতিপালন করি। প্রকৃতিক ভাবে খাবার মেটানো খরচ কম হয়। এতে লাভ বেশি হয়।
ডিমের আড়ৎদাররা জানান, প্রতিদিন তারা কয়েক হাজার ডিম কিনে নেন এবং তা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবী, হাঁসপালনকারী খামারীদের সঠিকভাবে দিকনির্শেনার পাশাপাশি সহযোগিতা দেয়া গেলে, আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিতেও তারা ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

SHARE