পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ভাই-বোনের হদিস মেলেনি

28

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম সূচনা ও তার ফুফাতো ভাই রিমনের সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পদ্মার ওই এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল। শনিবার রাত পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পদ্মায় ঘুরতে বেড়ালে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। তারা নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ সাদিয়া ইসলাম সূচনা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর বিবিএ তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। সূচনা ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করেন। তিনি পবা উপজেলার খোলাবোনা এলাকায় চাচা জালাল উদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। নিখোঁজ আরেকজনের নাম রিমন (১৪)। তার বাড়ি নওগাঁয়। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় নৌকার দুই মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নগরীর দামকুড়া থানায় রাজশাহী নৌপুলিশের কন্সটেবল শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন, নৌকার মালিক ঈসা, মিলন ও নৌকার মাঝি সুমন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ।

মেহেদি মাসুদ জানান, নদীতে নৌকা ভ্রমণে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক। কিন্তু নৌকার মালিকরা যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট না পরিয়ে নৌকায় উঠান। আর এই অবহেলার জন্যই নৌকাডুবির ঘটনায় মালিক ও মাঝির নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হারুপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাঝি এবং ১৩ জন যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। পরে অন্য নৌকা গিয়ে মাঝিসহ ১১ জনকে উদ্ধার করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সূচনা ও তার ফুফাতো ভাই রিমন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে ১৩ জন যাত্রী একটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে বেড়াচ্ছিলো। এ সময় নবগঙ্গা এলাকায় পদ্মায় নৌকাটি ডুবে যায়। ১১ জন যাত্রী স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উঠে আসে। বাকি দুইজন নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলেছে। এরপর আবারো শনিবার সকাল ৭টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

জাকির হোসেন আরও বলেন, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুইজন অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলো। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী নুরুন্নবী বলেন, নদী ভাঙনের কারণে যে আবর্জনা তৈরি হয় সেগুলো নদীতে জমে যাওয়ার কারণে ডুবুরীদের সঠিকভাবে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তবুও আমরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যতক্ষণ নিখোঁজ দুইজনকে পাওয়া না যায়; ততক্ষণ এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি এমএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ওই নৌকাতে যারা ছিল তারা সবাই একই পরিবারের। তাদের বাড়ি পবা উপজেলার দামকুড়া থানার খোলাবনা গ্রামে। বেড়ানোর জন্য তারা বের হয়েছিল। পরে নৌকা ভাড়া করে পদ্মায় তারা ঘুরছিল। নিখোঁজ সুচনা ও রিমন খালাতো ভাইবোন।

SHARE