রাবির অভ্যন্তরীণ রাস্তার বেহাল দশা, বাড়ছে ভোগান্তি!

29

অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কৃষি ও চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ ক্যাম্পাসে এসে রাস্তার বেহাল দশার চিত্র সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাস্তা সংস্কার করার হোক এমনিতেই প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অনুমোদন হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তা এবং স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের পিছন থেকে চারুকলা গেইট পর্যন্ত বিস্তৃত এ রাস্তাটির বেশিরভাগ জায়গায় পিচ উঠে গেছে। রাস্তার যেখানে সেখানে পানি জমে রয়েছে এবং ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ১০টি অনুষদের মধ্যে কৃষি অনুষদ ও চারুকলা অনুষদে যাওয়ার রাস্তাটি এটি। ক্যাম্পাস খোলা থাকলে এই দুই অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া চারুকলা গেট সংলগ্ন মেহেরচন্ডি, কড়ইতলা ও ভদ্রা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন মেসে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমছে এই। রাস্তাটিতে চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় তাদের। বন্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা এসে রাস্তার বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক ফেসবুক গ্রুপে রাস্তাটি সংস্কার না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর দাবি জানিয়ে আসলেও আমলে নেননি প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবি, খোলা ক্যাম্পাসে রাস্তাটি সংস্কার করতে গেলে তাদের চলাচলে অন্তত কিছুদিন ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখন যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে, এই সুযোগে রাস্তাটি সংস্কার করা উচিত।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, আগে ভবন নির্মাণ কাজের পরে এ রাস্তার মেরামত করতে চাইলেও পরবর্তীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত মেরামত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যেই এ রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী সানজিদা আলম বলেন, শীতকালে প্রচন্ড ধূলা-বালি আর বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি আর কাদার কারণে চলাফেরা করা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। রিকশা থেকে অনেকেই পিছলে পরে যায়। আমাদের অনুষদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ পথ ধরেই চলাফেরা করে। ফলে দেখা যায় ছবি আঁকার প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রে কাদা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। এই রাস্তার ধার ধরে হাঁটার মতোও তেমন কোনো জায়গা না থাকায় অনেক সময় বিভিন্ন যানবাহনের চাকা থেকে বেরিয়ে আসা কাদা লেগে পোশাকও নোংরা হয়ে যায়।
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নূরনবী তালুকদার বলেন, ভাঙাচোরা এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি কিংবা রিকশায় করে চলাচলের সময় অনেকেই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হবে।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ রাস্তাটির অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে আছে। বিভাগে আসার পথে দেখি এখনো রাস্তার কোনো কোনো জায়গা পানিতে ডুবে আছে। রাস্তাটি প্রায় চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি এবং চারুকলা, এই দুই অনুষদের ডিন মিলে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য গত কয়েকমাস আগে আমরা লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম। তারা (প্রশাসন) সংস্কারের কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা তা জানা হয়নি।
রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাস্তাটির অনুমোদন হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যাবে। ক্যাম্পাসে সুউচ্চ ভবন তৈরির জন্য নির্মাণ সামগ্রী আনা হবে। যে রাস্তা দিয়ে আনা হবে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নির্মাণ সামগ্রী আনার পরই রাস্তাটি সংস্কার করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ দেখে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি মাসখানেকর মধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

SHARE