নগরীতে পুকুর ভরাট বন্ধে কিছু করুন

53

প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাজশাহীতে ছিল অসংখ্য পুকুর। প্রায় প্রতিটি মহল্লায় ছোট-বড় পুকুর থাকায় রাজশাহী পুকুরের শহর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সে পুকুর কমতে কমতে এখন হাতে গোনা কয়েকটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। সেগুলোও কায়দা-কৌশলে ভরাট করছে অবৈধ দখলদাররা। সেভাবেই গ্রেটার রোডের পাশের টিবি পুকুরটি এখন ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির পাশেই ঐতিহ্যবাহী টিবি পুকুর। বিশাল এই স্বচ্ছ পানির পুকুরটিতে আশপাশের মানুষজন গোসলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন। যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে পুকুরটির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড় ভরাট করে ঘর তুলেছেন কিছু ব্যক্তি। দীর্ঘদিনের রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

এতে অসুবিধায় পড়া এলাকাবাসী পুকুর ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে সিটি মেয়রের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছে। ২০১৫ সালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরও পুকুর দখলকারীদের নোটিশ দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাতে কর্ণপাত না করে পুকুর ও রাস্তা দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত থাকে। আর এস দাগে থাকা রাস্তা ও পুকুরের সীমানা এখন সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে গেছে।

পুকুরের পাড় দখল করে ঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। সেখানে মাদকের আসর বসে, চলে নানা অসামাজিক কাজ। গাড়ির গ্যারাজ, গরু-ছাগলের গোয়ালসহ এসব ঘর থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ধীরে ধীরে পুকুর ভরাট হচ্ছে, পানি হচ্ছে দূষিত। টয়লেট নির্মাণ করে পুকুরেই ফেলা হচ্ছে সব বর্জ্য।

পুকুর দখলকারিদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে সিটি মেয়র কি করেছেন সেটা জানা যায়নি। করপোরেশনের সচিব জানিয়েছেন, আবেদন যেহেতু মেয়র বরাবর দেয়া তাই তিনি যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী কাজ হবে। তার অপেক্ষাতেই দিন গুণছেন এলাকাবাসী।

শুধু টিবি পুকুরই নয়, নগরীর আরও বেশ কিছু পুকুর ধীরে ধীরে ভরাট হচ্ছে বা এর মধ্যেই হয়ে গেছে। অথচ নগরীতে পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ বলেই জানে সকলে। তারপরও নজরদারির অভাবে রক্ষা পাচ্ছে না পুকুর। রাজশাহীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর-জলাশয় রক্ষার বিকল্প নেই। তাই পুকুর ভরাট বন্ধ করে যথাযথভাবে সংরক্ষণে এখনই কিছু করা জরুরি বলে মনে করে নগরবাসী।

SHARE