নতুন সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

50

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে। এ পর্যন্ত আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক দিনে আশানুরূপ রোগী সুস্থ হয়েছেন। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একদিনে শনাক্তের চেয়ে বেশি মানুষ করোনা জয় করেছেন। করোনামুক্তির এ ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ, সুস্থ হওয়ার হার বাড়লে কমবে মৃত্যুর ঝুঁকি। সরকারি হিসাবে দেশে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে জুন মাসে। সুস্থও বেশি হয়েছেন ওই মাসেই। লক্ষ করা যাচ্ছে, সুস্থ হওয়ার হার জুনের তুলনায় জুলাই মাসে অনেক বেশি। আশা করা যাচ্ছে, সুস্থ হওয়ার হার আগামীতে আরও বাড়বে।

বস্তুত করোনা সংক্রমণের শুরুতে বিশ্বের কোথাও এ সংক্রান্ত চিকিৎসা কার্যক্রম গোছানো ছিল না। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চিকিৎসকরা কী করবেন তা বুঝে ওঠার আগেই অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমদিকে তাদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা হয়েছে। হাসপাতালগুলো সেভাবে তৈরি ছিল না। উপকরণ সংকটসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটও ছিল তীব্র। সংক্রমণের শুরুর দিকে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল খুবই সীমিত। এ সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রটোকলসহ ধীরে ধীরে সব তৈরি হয়েছে। এগুলো তৈরি করতে করতেই সংক্রমণের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। চিকিৎসাসেবা জোরদার হওয়ায় দেশে করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনামুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় মৃত্যুর হারও কমে আসবে। ধীরে ধীরে আক্রান্তের হারও কমতে থাকবে, এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

আশার কথা হল, সারা বিশ্বে করোনায় প্রাণহানি কমছে। কোনো কোনো দেশে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। দিনে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এমন দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। লক্ষ করা গেছে, কোনো কোনো দেশে বা অঞ্চলে সংক্রমণ শূন্যে নেমে আসার পর পুনরায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে করোনা মোকাবেলার নীতি নির্ধারণে এসব বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। কোনো দেশে বা অঞ্চলে সংক্রমণ শূন্যে নেমে আসার পর কেন পুনরায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে বা বেড়েছে, সেসব বিষয়ে অতি দ্রুত সর্বশেষ তথ্য প্রাপ্তিতে যাতে কোনো রকম জটিলতা সৃষ্টি না হয়, কর্তৃপক্ষকে সেসব বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোগীর লক্ষণ তেমন তীব্র থাকে না। যাদের লক্ষণ তীব্রভাবে প্রকাশিত হয় না, তাদের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে বেশি। এসব বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দেশে পরীক্ষাগারের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। করোনা পরীক্ষার বিষয়ে এখনও দেশে নানা সমস্যা বিদ্যমান। বিশেষ করে দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করাতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কতটা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, তা গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল প্রাপ্তিতে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

SHARE