চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক মাসুম

19

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর সিনিয়র সাংবাদিক তবিবুর রহমান মাসুমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে সোমবার (২৯ জুন) তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। এর আগে বাদ জোহর রাজশাহীর হজরত শাহমখদুম (র.) জামে মসজিদে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

৫২ বছর বয়সে তবিবুর রহমান মাসুম রোববার রাত ৯টায় ইন্তেকাল করেন। তিনি দৈনিক সোনালী সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। প্রত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ ২৬ বছর এ পত্রিকায় তিনি অত্যন্ত ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী জেলা সংবাদদাতা ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনের সাংবাদিক হিসেবেও তার বিশেষ খ্যাতি ছিল। তিনি বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। খেলাধুলার নানা আসরের খবর সংগ্রহে তিনি বিশ্বের নানা দেশ ভ্রমণ করেছেন।

প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তবিবুর রহমান মাসুম জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। নানা রকম পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হলেও তার সুনির্দিষ্ট কোনো অসুখ ধরা পড়েনি। শেষে করোনা সন্দেহে গেল শুক্রবার তিনি এবং তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা নমুনা দেন। কিন্তু রোববার রাতে মাসুমের মৃত্যুর পর দেয়া রিপোর্টে তাদের দুজনেরই করোনা নেগেটিভ এসেছে।

সাংবাদিক তবিবুর রহমান মাসুমের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা জানিয়েছেন, প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে জ্বর ও কাশি ছিল মাসুমের। কোনোভাবেই জ্বর কমছিল না। হঠাৎ রোববার সন্ধ্যার পর তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। করোনা সন্দেহে দ্রুত তাকে রাজশাহীর খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন দেয়া হলে মাসুমের ভালো লাগে। কিন্তু শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না বলে মিশন হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এরপর দ্রুত তাকে রামেক হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাসুম সাংবাদিকতার পাশাপাশি নগরীর বঙ্গবন্ধু কলেজে শিক্ষকতা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত সোনালী সংবাদ পরিবার।

মাসুমের জানাজা নামাজে সোনালী সংবাদ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ জামাল কাদেরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ তার সহকর্মী এবং স্বজনরা অংশ নেন।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীরসহ অনেকেই।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোশিয়েশন, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন মাসুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা মাসুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। পাশাপাশি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি।

SHARE