দৃষ্টি এখন গণভবনে

183

গণধ্বনি প্রতিদিন ডেস্ক : দিন নয়, ঘণ্টা ধরে পার হচ্ছে সময়। জাতির দৃষ্টি এখন গণভবনে। শত প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সংলাপ’। রাজনীতির মরু উদ্যানে যেন আশার আলো জাগিয়ে তোলার এ আয়োজন। হতাশার কিনারে ঠেকে গিয়ে যেন ফের কূল পাওয়ার স্বপ্ন।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ। সংলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের ২৩ প্রতিনিধি এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১৬ জন অংশ নেবেন। এতে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অবিশ্বাস আর অনিশ্চতার রাজনীতির মাঝে অনেকে এ সংলাপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ সংলাপ প্রসঙ্গে বলেন, জাতির আকাশে যে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে, তা দূর করতে হলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। শত জল্পনা শেষে সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এটি আশার আলো জাগিয়েছে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, প্রথম আলোচনায়ই সমাধান মিলবে তা মনে করছি না। সংলাপের ফলাফল নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাড় দেয়ার ওপর। বিশেষ করে সরকার আন্তরিক হলে সহজেই সমাধান মিলবে। কীভাবে সমাধান মিলবে, তা সংবিধানেই আছে। কারণ সংবিধান পরিবর্তনশীল এবং নাগরিকের কল্যাণেই তা পরিবর্তনের দাবি রাখে।

একই বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে আলোচনার কোনো বিকল্প হতে পারে না।

তিনি বলেন, সংলাপের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আবারও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্থির সিদ্ধান্ত থেকেই এমন আহ্বানে সাড়া এসেছে বলে মনে করি। ফলাফল যাই হোক প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে জাতি সাধুবাদ জানিয়েছে বলে বিশ্বাস করি।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গোটা জাতি এই সংলাপ আয়োজনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও সংলাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আপাতত কোনো কারণ নেই। কারণ আমরা আগেও এমন সংলাপ দেখেছি। অর্থবহ আলোচনা হয়েছে, এমন নজির আছে বলে আমার জানা নেই। এমনকি গত জাতীয় নির্বাচনের আগেও সংলাপের আলোচনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।

এই বিশ্লেষক বলেন, সংলাপ ফলপ্রসূ হবে কি-না তা নির্ভর করবে অংশগ্রহণকরীদের আন্তরিকতার ওপর। যেসব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই সাংবিধানিক। সংবিধান পরিবর্তনের ব্যাপারে আছে। আবার অনেক বিষয় আছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জড়িত। তবে আলোচনা শুরু হওয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখতে হয়।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য সংবলিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব আসে ড. কামালের বাসায়।

SHARE