ঘরে থাকুন সামষ্টিক স্বার্থে

66

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে না মানার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে এটা স্বস্তির যে, অনেকেই নির্দেশনা মানছেন। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষণীয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ নির্দেশনা মানতে ঢিলেঢালা ভাব দৃশ্যমান। সামাজিক ও আড্ডাপ্রিয় অনেকেই যেমন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ আবার জরুরি কেনাকাটাসহ বিশেষ প্রয়োজনে বেরিয়েছেন। শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষও বের হচ্ছেন পেটের দায়ে। সাংবাদিক, চিকিৎসক, ব্যাংকারসহ কয়েকটি পেশার মানুষকেও কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। তা ছাড়া সেনাবাহিনী. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো আছেই। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, করোনা থেকে সুরক্ষার অন্যতম পথ ঘরে থাকা। এর মাধ্যমে শুধু নিজের সুরক্ষাই নয়, বরং পরিবার, সমাজ, সর্বোপরি রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্যই ঘরে থাকা জরুরি। এ জন্যই সরকার প্রথমত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে। এর পর সাধারণ ছুটি দিয়ে সারাদেশে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই পদ্ধতি আমরা দেখেছি। এমনকি এ সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার চেয়ে ঘরে নামাজ পড়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। আমরা জনি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় এখনও স্বীকৃত ওষুধ ও প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি বলে এ অবস্থায় গবেষকরা বলছেন, শুধু সামাজিক দূরত্বের নিয়মকানুন মানাই সবচেয়ে বড় ওষুধ। এর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ থেকে অন্তত অর্ধেক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। আমরা মনে করি, আমাদের দেশে এখনও এটি যে মহামারি আকারে ছড়ায়নি, তার পেছনে এই লকডাউন ও ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার সময় এখনও আসেনি। তাই যেভাবেই হোক, এ নিয়ম আমাদের মানতেই হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে হবে। সেটা মানুষের ওপর চড়াও হওয়ার মাধ্যমে নয় বরং তাদেরকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময়ে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপারে সরকারও উদ্যোগ নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে যেভাবে সবাই এগিয়ে আসছে, সেটিও সাধুবাদযোগ্য। তবে এ ক্ষেত্রে ‘দূরত্ব বজায় রাখা’র সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এমনকি বিশেষ পেশাজীবী যারা বের হচ্ছেন, তারাও সতর্কতা অবলম্বন করবেন। এ সময় ঘরে থেকেই আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

SHARE