নগরীতে নির্মাণাধীন পাঁচ তলা ভবনে ফাটল, আতঙ্ক

187

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীতে নির্মাণাধীন পাঁচতলা একটি ভবনে ফাটল ধরেছে। এতে এলাকাজুড়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর কলাবাগান এলাকার ওই ভবন পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করে সিটি করপোরেশন। এ সময় রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে মাইকিং করে ভবনের বাসিন্দাসহ আশপাশের লোকজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেন। এর আগে ২০১৬ সালে কলাবাগান এলাকার ফজলুর রহমান পলাশের স্ত্রী হিরা বেগম পুকুর ভরাট করেন। ওই সময় সেখানে তিনতলা ভবনের জন্য নকশা অনুমোদন নিয়ে চারতলা নির্মাণ করেন। বর্তমানে পাঁচতলা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তবে নকশা বহির্ভূতভাবে ভবন সম্প্রসারণ করায় স্থানীয়রা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-আরডিএ’র কাছে অভিযোগ করেন। এরপরই তদন্ত শেষে আরডিএ অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেও কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী বিকেলে হঠাৎ করেই ভয়াবহ ফাটল দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার বলেন, বিকেলে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ওই ভবনটি পরিদর্শন করেন। পরে ভবনের ফাটল পর্যবেক্ষণ করে কলাবাগান এলাকার নির্মাণাধীন ওই পাঁচতলা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করেন। এ সময় বাড়ি মালিক ও আশপাশের অধিবাসীদেরও নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।
জানতে চাইলে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তারাও ভবনটি দেখেন। পরিদর্শন শেষে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য ওই এলাকায় মাইকিং করেন। তবে বাড়ির ওপরের একটি ফ্লোরে থাকা লোকজন সেখান থেকে নামতে চাননি। বর্তমানে তিনি সেখান থেকে চলে আসলেও একটি টিম ভবনের পাশে রাখা আছে বলেও জানান তিনি।
কলাবাগান মহল্লার বাসিন্দা আফরোজা শিল্পী সাংবাদিকদের বলেন, কতো অভিযোগ করলাম, এতো দিন কেন আসেননি? আমরা কতো ঝুঁকি নিয়ে থাকি, কেউ দেখে না। আমাদের প্রাণের তো কোনো মূল্য নেই। আর দু’দিন পরেই আসেন, যখন ভবনটা ভেঙে পড়বে।

SHARE