পাস্তুরিত দুধ অনিরাপদ

158
Pouring milk in the glass on the background of nature.

দেশে বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যেই স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণনের কোনো পর্যায়ে সঠিক মান রক্ষা করা হয় না। ফলে নানা ধরনের জীবাণু সংক্রমিত হয়ে এসব খাদ্যপণ্য জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক খাদ্যপণ্যটি হচ্ছে পাস্তুরিত তরল দুধ। এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইসিডিডিআরবির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে বাজারে পাওয়া পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই অনিরাপদ। পরে এসংক্রান্ত এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ের দুধে এ সমস্যা দেখতে পায়। তাদের মতে, সমস্যাটি হয় মূলত সরবরাহ ও বিপণন পর্যায়ে। এ থেকে উত্তরণের জন্য কমিটি কিছু সুপারিশও করেছে। এখন প্রতিবেদনটি আদালত বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ দেবেন। তত দিন কি মানুষ এসব অনিরাপদ দুধ খেয়ে অসুস্থ হতে থাকবে?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, দুধকে বলা হয় সবচেয়ে ভালো ‘কালচার মিডিয়া’ বা জীবাণু বিস্তারের সেরা একটি মাধ্যম। অর্থাৎ উপযুক্ত পরিবেশে না রাখা হলে দুধে অতি দ্রুত জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। কমিটি দেখতে পেয়েছে, দুটি ছাড়া অন্য কম্পানিগুলোর পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন পর্যায়ে ঠিক আছে। যে দুটি কম্পানিতে সমস্যা পাওয়া গেছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলে রাখা ভালো, পাস্তুরিত দুধে জীবাণু শতভাগ নষ্ট হয় না। সেই দুধ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট রাখলেও জীবাণু দ্বিগুণ হয়ে যায়। অথচ যেসব ভ্যানে করে এসব দুধ দোকানে দোকানে সরবরাহ করা হয়, সেগুলোর একটি বড় অংশেই এই তাপমাত্রায় দুধ সংরক্ষণ করা হয় না। আবার অনেক দোকানে ফ্রিজে না রেখে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হয়। ফলে এগুলোতে জীবাণু বাড়তেই থাকে এবং একসময় তা অত্যন্ত ক্ষতিকর মাত্রায় চলে যায়। পাস্তুরিত দুধ বলে ভোক্তারাও এটি পুনরায় তাপ দিয়ে জীবাণু নষ্ট করার প্রয়োজন মনে করে না। অথচ এসব দুধে কলিফর্ম ও ই কোলাইয়ের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিপুল উপস্থিতি পাওয়া গেছে পরীক্ষাগারে।

ভাবতে অবাক লাগে, আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ আরো কত কর্তৃপক্ষ আছেÑতারা কেউ-ই এতদিন এমন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দেখতে পায়নি? অবশেষে আদালতের নির্দেশে তাদের টনক নড়ল! তাদের গঠিত কমিটিও স্বীকার করেছে, যে পাস্তুরিত তরল দুধ ভোক্তাপর্যায়ে পাওয়া যায়, তাতে ক্ষতিকর মাত্রায় জীবাণু আছে। মানসম্মত না হওয়া পর্যন্ত সেই দুধের সরবরাহ ও বিক্রয় বন্ধ রাখতে হবে। আর একজন মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

SHARE