জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতা-কর্মীর ১০ বছর কারাদণ্ড

229

স্টাফ রিপোর্টার : বিস্ফোরকদ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামায়াত-শিবিরের পাঁচ নেতা-কর্মীকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড।

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপরজন পলতাক রয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর থানার রেহায়চর এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে জামায়াত নেতা আবদুল খালেক, চাঁদখাই এলাকার ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে শিবির কর্মী কামাল উদ্দিন ও বেলাল উদ্দিন, নয়নশুকা এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে সোহেল রহমান এবং হেলালপুর এলাকার নূর মোয়াজ্জেমের ছেলে আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে আনোয়ার পলাতক রয়েছেন।

এর আগে ২০১৩ সালের শেষ দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ওই বছরের ২৮ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পিটিআই এর সামনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে।

এ সময় তারা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে দিয়ে দফায় দফায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তারা হামলা চালায়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবুর রহমানসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে টিয়ারশেল ও লাঠি চার্জ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এই ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার এসআই মাহাবুবুর রহমান বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর রাজশাহীর দ্রুত বিচার  ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়ে আসে।

এ মামলায় আদালতে মোট ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু। আসামি পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

SHARE