দুই উৎসব পালনে প্রস্তুত রাজশাহী

52

স্টাফ রিপোর্টার: আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। দিনটি বাঙালির প্রাণের উৎসবের। একই দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। বাঙলা পঞ্জিকা সংশোধনে এবার দুই উৎসবই পড়েছে একদিনে!
তাতে কি? উৎসব পালনে বাঙালির উৎসাহের কমতি নেই। পহেলা বসন্ত ও ভালোবাসা উৎসব পালনে প্রস্তুত রাজশাহী।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘিরে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃংখলা বাহিন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ ও পদ্মাপাড়সহ উৎসবস্থল এবং বিনোদনকেন্দ্র ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নগরীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেগুলোতে চেকপোস্ট থাকবে। দায়িত্বপালন করবেন পোষাকে ও সাদা পোষাকে পুলিশ। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবেনা।
অন্যদিকে, জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, নির্বিঘ্নে উৎসব পালনে জেলাজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলার বিনোদনকেন্দ্র গুলো ঘিরে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। এনিয়ে শঙ্কিত হবার কারণ নেই।
এদিকে, উৎসবের প্রধান অনুসঙ্গ ফুলের ফুলের পসরা সাজিয়েছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। প্রস্তুতিও রয়েছে বেশ। বেচাবিক্রিও ভালো হবে-এমনটিই প্রত্যাশা সবার।
নগরীর জিরো পয়েন্টের ফুল বিক্রেতারা বলেন, আমরা বছরে তো কয়েকটি দিন ব্যবসা করি। পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ আর ২১ ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারিতে ওতো ব্যবসা হয় না। ওটা বাদ দিলে থাকে মোটে তিনটে দিন। এবার আবারও দুই উৎসব একদিনে। আশা করা যাচ্ছে ভালো বেচাবিক্রি হবে।
তারা আরো বলেন, অন্যবার পহেলা ফাল্গুনের আগের দিন থেকে ব্যাপক ভিড় লেগে যায়। এবার কিছুৃটা কম। তবে এখনই হাল ছাড়ছেন না ফুল ব্যবসায়ীরা। উৎসবের দিনভরও ফুল বিকিকিনি চলবে প্রত্যাশা তাদের।
প্রিয়জনের জন্য ফুল কেনার হিড়িক না পড়লেও দোকানগুলোতে অন্যান্য দিনের চেয়ে বিকিকিনি কিছুটা বেশি ছিলো। তবে ঘুরে দেখার সংখ্যাটা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
ফুল কিনতে এসেছিলেন কয়েকজন কলেজছাত্রী। তারা বলেন, এখন দেখতে এসেছি। কী ধরনের ফুল বা বেণী মানায়। সকালে বের হয়ে সেটা কিনে নেব। না হলে তো নষ্ট হয়ে যাবে!
নিজের জন্যই সবাই কিনতে এসেছেন তাও নয়। কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে আবার কেউ-বা প্রিয়জনের অগোচরে। অল্প-স্বল্প বিক্রি হলেও ফুলের বাজার চড়া!
যশোর থেকে আনা প্রতিটি দেশি জাতের লাল গোলাপ ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পলিথিনে মোড়ানো গোলাপগুলো কেউ ইন্ডিয়ান, কেউ চাইনিজ আবার কেউ-বা থাইল্যান্ডের গোলাপ বলে বিক্রি করছে। দোকানভেদে সেই গোলাপের দামেও আকাশ-পাতাল পার্থক্য! প্রিয়জনকে উপহার দিতে বাধ্য হয়ে ৮০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
রোজ পুষ্পবিতানের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবারও ২০ থেকে ২৫ টাকায় গোলাপ ফুল বিক্রি করেছি। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দাম বেড়েছে। আর ভালোবাসা দিবসে দাম আরও বাড়বে।

SHARE