বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা পত্রেও স্বীকৃতি পায়নি আড়ানীর শহীদ রাশ চৌধুরীর পরিবার

24

বাঘা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দশআনি ঋষিপাড়া মহল্লায় বসবাস করেন শহীদ রাশ চৌধুরীর পরিবার। শুধু বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও ভাষা দিবসে এই পরিবারের উত্তরসূরিদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। কিন্তু এই পরিবারকে ৪৮ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা ও শহীদ স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১ এপ্রিল রাশ চৌধুরী পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এই শহীদ পরিবারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২০ নভেম্বর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একটি পত্র দেন। পাশাপাশি ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এক হাজার টাকা প্রদান করা হয়, মর্মে তাদের কাছে একটি বঙ্গবন্ধুর স্বহস্তে লিখিত প্রেরিত পত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর হাতে লেখা পত্র নিয়ে শহীদ পরিবার বিভিন্নস্থানে ধরনা দিয়েও আজও স্বীকৃতি পায়নি। এই পরিবারটি কিছুই চায়না শুধু শহীদের স্বীকৃতি ও সম্মান চায়।

উপজেলার দশআনি ঋষিপাড়া মহল্লার শহীদ রাশ চৌধুরীর একটি আধপাকা ঘর ও তিনটি কাঁচা ঘরের দেয়াল খসে পড়ছে। এই বাড়িতে থাকেন শহীদ রাশ চৌধুরীর বড় ছেলে রতন চৌধুরী (৫৮), স্ত্রী পলি চৌধুরী (৪৫), ছেলে রানা (১৯), অর্ক (৯), মেঝো ছেলে জীবন চৌধুরী (৫০), স্ত্রী মাধুরী চৌধুরী (৪০), একমাত্র মেয়ে মন্দিরা (২০), ছোট ছেলে স্বপন চৌধুরী (৪৫), স্ত্রী রিতা চৌধুরী (৩৫), এক ছেলে রিক (১০)।

রাশ চৌধুরীর তিন মেয়ে ছবি চৌধুরী (৭০), বেবি চৌধুরী (৫৫), বিথি চৌধুরী (৪৮) অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। রাশ চৌধুরীর স্ত্রী শেফালী চৌধুরী ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর মারা গেছেন।

শহীদ রাশ চৌধুরীর বড় ছেলে রতন চৌধুরী বলেন, আমরা ভাতা চাই না, আমার বাবার শহীদ স্বীকৃতির শুধু সম্মান চাই। এই সম্মান দিলে আমার বাবার আত্মা তৃপ্তি পাবে বলে এই প্রত্যাশা করছি।

অপরদিকে একই মহল্লার শহীদ প্রবাস দাসের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, দুইটি ছোট ছোট টিনের ছাপড়া ঘর, একটি ঘরে থাকেন শহীদ প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস। আরেক ঘরে থাকেন তার ছেলে সুনীল দাস। ঘরের অবস্থা ভালো না। খড়ের বেড়াগুলো ভেঙ্গে গেছে।

এই বাড়িতে থাকেন শহীদ প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস (৬৩), ছেলে সুনীল দাস (৩৯), স্ত্রী মুক্তি দাস (৩৫), দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে দীপ্তি (১৭), বিক্রম (১৮), বিথি (৯)।

প্রবাস দাসের বড় ছেলে অনিল দাস (৪৫) ১০ বছর পূর্বে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। তার স্ত্রী বাসনা দাস (৪২), দুই ছেলে অর্ণব (১৯), ও সনদকে (১৫)নিয়ে মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে খেয়ে না খেয়ে কোনোরকম দিন পার করছে।

প্রবাস দাস ১৯৭১ সালে ১৫ এপ্রিল শহীদ হন পাকহানাদার বাহিনীর হাতে।

এ বিষয়ে শহীদ প্রবাস দাসের স্ত্রী গীতা দাস জানান, বছরে একবার স্থানীয়ভাবে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আমার স্বামীর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমার এই বাড়িতে ফুল দেয়ার জন্য আসে। অন্য কোনো সময় খোঁজ-খবর নেয় না কেউ। এ ছাড়া সরকার প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে প্রতি মাসে ভাতা চালু করেছেন। কিন্তু আমাদের পরিবারকে কিছুই দেয়া হয় না।

আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, কোনো সরকার এই শহীদ পরিবারের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয় না। তবে ভাষার মাস এলেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা র্যা লি নিয়ে দুই শহীদ পরিবারের উত্তরসূরিদের হাতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসি।

SHARE