ভুবন মোহন পার্ক শহিদ মিনার, এখন ধুমপায়ীদের আড্ডাখানা

26

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর ভুবন মোহন পার্ক। পার্কের শহিদ মিনারের পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী চায়ের দোকান। তাই শহিদ মিনার ওপর বসে অনায়াসে চায়ের সাথে আড্ডা জমাচ্ছেন ক্রেতারা। অস্থায়ী দোকানগুলোতে শুধু চা নয় পাওয়া যায় সিগারেটও। তাই চায়ের সাথে ‘টা’ হিসেবে সিগারেটের সাথেই চলছে আড্ডা। দুইপাশে তিনটি করে মোট ছয়টি স্তম্ভের মাঝে উঁচু শিরে ৬৪ জন ভাষা সৈনিককে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়া মাঝের স্তম্ভটির সাথে হেলান দিয়ে হরহামেশা ধুমপান করছে তারা। অনেকেই বিশ্রামের জায়গা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এ স্তম্ভটিকে। জুতা-স্যান্ডেল পরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।
নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভুবন মোহন পার্ক শহিদ মিনারের বর্তমান চিত্র এমনই। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে এই পার্কের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। নগরীর ভেতরে অনেকটা নিরিবিলি থাকায় অনেকেই এখানে আড্ডা জমান। আর এখন নির্মাণ কাজ চলছে তাই অনেকেই শহিদ মিনারটিকে তেমন গুরুত্ব দেননা। আগেও এখানে কিছু মানুষ ধুমপান করতো। কিন্তু শহিদ মিনারের উপরে ওঠতো না। তবে কিছু অসচেতন মানুষ এসব নিয়ম মানে না।
শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, আমি প্রায় ২ বছর থেকে ভুবন মোহন পার্কের পাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। আগে এই জায়গার পরিবেশ এত খারাপ ছিলনা। এখন প্রায় দেখি শহিদ মিনারের উপর দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। জুতা পড়েই স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকছে। আড্ডা দিচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী নাহার আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহনকারী এসব জায়গাগুলো আরো উন্নত করা প্রয়োজন। পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষেধ। আর এরা শহিদ মিনারের ওপর দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ মিনারটি ধারণ করে আছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। বর্তমান মেয়রের দূরদর্শিতায় যখন সবুজ ও শিক্ষা নগরীর আমূল পরিবর্তন আসছে তখন ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই শহিদ মিনারের এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, শহিদ মিনারের উপর দাঁড়িয়ে ধুমপান করা, এটাকে সম্মান না করা অন্যায় কাজ। আমরা এই বিষয়টাকে মেয়রের দৃষ্টি আর্কষণ করার চেষ্টা করেছি। আমিও চাই এসব কাজ যেন এখানে বন্ধ হয়। দৃষ্টিকটু এমন কাজ অতিসত্বর বন্ধ হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রনে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। আর এটা একটা পার্ক যেখানে শহিদ মিনার অবস্থিত। এই পার্কে সংস্কার কাজ চলছে। আমরা এখানে প্রচীরটা ঘিরে দেব। সাথে লাইটিংয়েল থাকবে। এছাড়া আমরা পাহারাদার নিযুক্ত করবো। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এটার সংস্কার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আর কেউ অসামাজিক কাজ বা মাদকের নেশা করার সুযোগ পাবে না। সিটি করপোরেশন এককভাবে এটা নিয়ে কাজ করতে পারে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে অন্য এজেন্সি আছে। তারাও এটা দেখভাল করবে বলে আশা করি।

SHARE