রাজশাহীতে দুর্ভোগে যাত্রীরা, চাপ পড়েছে ট্রেনে

147

স্টাফ রিপোর্টার : পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার রাজশাহীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিবহন ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার যাত্রীরা। নগরীর নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শিরোইলে থাকা ঢাকা বাস টার্মিনাল থেকে সোমবারও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে দূর-দূরান্তের যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে নানা দুর্ভোগ পোহান। পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে ট্রেনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। সোমবার সকালে রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে প্রতিটি ট্রেনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট গোলাম মোস্তফা জানান, এমনিতেই ট্রেনে ভিড় বেশি। এর ওপর পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে গত রোববার থেকে বাড়তি চাপ পড়েছে। সোমবার রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটিসহ প্রতিটি ট্রেনেই সাধারণ যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র সড়ক পথে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। তাই রাস্তায় বাস তো দেখাই যাচ্ছে না অন্য পরিবহনের সংখ্যাও কমে এসেছে। বাধ্য হয়েই যাত্রীরা ট্রেনে ঝুলে, ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। ট্রেনই এখন একমাত্র ভরসা হওয়ায় স্ট্যান্ডবাই টিকিট বিক্রি বেড়েছে বলেও জানান রেলওয়ের এই কর্মকর্তা।
সোমবার সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। ট্রেনের আসন ফুরিয়ে যাওয়ায় স্ট্যান্ডবাই টিকিট নিয়েই বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা ট্রেনে উঠছেন ঠেলাঠেলি করে।
ঢাকাগামী যাত্রী রফিক আহমেদ বলেন, বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনে ভিড় বেশি। তাই অনেক ঠেলাঠিলি করে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনের সিটও ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু উপায় না থাকায় সারাটা পথ দাঁড়িয়ে থেকেই ঢাকা যেতে হবে।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবি জানান, গত রোববার সকাল থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। পরিবহন মালিক সমিতি এবং মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নসহ শ্রমিক সংগঠনগুলোর সিদ্ধান্তে রাজশাহীতেও ধর্মঘট চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে নগরীর শিরোইল, ভদ্রা ও গোরহাঙ্গা রেলগেট বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প যানবাহন গন্তব্যে রওনা হন। এছাড়া রাজশাহী থেকে নাটোর, বগুড়া, পবানা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রংপুর, কুড়িগ্রাম রুটে বিআরটিসি বাস চলাচল করায় ভুক্তভোগীরা নগরীর কুমারপাড়া ডিপো ও রেলগেট বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেন। তবে সংখ্যায় বিআরটিসি বাস কম থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটছে না। ফলে তারা ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, সিএনজি ও দূরের যাত্রার জন্য রেলপথকেই বেছে নিচ্ছেন।
নগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী তুহিনুল ইসলাম পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছেন। দাবি আদায়ের জন্য তারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। তাদের কারণে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হওয়া মানুষ, বিশেষ করে যাদের দূর গন্তব্যে যাওয়া জরুরি তারা যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাশাপাশি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাও নাকাল হতে চলেছে। এর থেকে সাধারণ মানুষকে নিস্তার দিতে আদালতের নির্দেশনা আসা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

SHARE