পোস্তগোলায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

158

ঢাকার পোস্তগোলায় অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুতে ইজারাদার প্রচলিত টোল হার হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। মঙ্গলবার থেকেই এর প্রতিবাদ করতে থাকে ট্রাক শ্রমিকরা। তারা শুক্রবার সেতুর মুখে এলোপাতাড়ি ট্রাক রেখে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় দুই পাশে বহু যানবাহন আটকা পড়ে যায় এবং হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ সময় পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষে ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে চলে গেলে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় এক শ্রমিক নিহত এবং পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িসহ সড়কে অপেক্ষমাণ বহু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘণ্টা চারেক এমন তাণ্ডব চলার পর টোলমুক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু এরইমধ্যে জানমালের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেল তার দায় কে নেবে?

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে। সর্বশেষ এখানে ট্রাকপ্রতি টোল আদায় করা হতো ৩৫ টাকা করে। নতুন ইজারাদার গত মঙ্গলবার থেকে ট্রাকপ্রতি ২৪০ টাকা দাবি করায় শুরু হয় শ্রমিকদের প্রতিবাদ। ইজারাদারের বক্তব্য, তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্ধারিত হারেই টোল দাবি করেছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, ২০১৫ সালে সরকার যে টোল নীতিমালা চূড়ান্ত করে, তাতে টোল হার বাড়ানো হলেও এখানে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। নতুন ইজারাদার এক দফায় তা বাস্তবায়ন করতে যাওয়ায় এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, মঙ্গলবার থেকে উত্তেজনা চললেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কেন তাতে হস্তক্ষেপ করেনি? অন্যদিকে আন্দোলনের নামে শ্রমিকরা সেদিন যা করেছে তাও কাম্য ছিল না। প্রথমত তারা এলোপাতাড়ি ট্রাক রেখে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ হয়েছে। পুলিশ ট্রাক সরাতে গেলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়েছে। প্রকাশিত খবরে কেরানীগঞ্জ থানার ওসির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে কয়েকজন নারী পুলিশসহ কিছু পুলিশ একটি রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। রেস্টুরেন্টে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চিৎকার করতে করতে পুলিশ সদস্যরা পার্শ্ববর্তী আনসার ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেও ট্রাক ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং হামলা চালানো হয়। এ অবস্থায় পুলিশ ফাঁকা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। শুধু পুলিশের ভাষ্য নয়, উপস্থিত অনেকেরই ভাষ্য প্রায় একই রকম ছিল। শ্রমিকদের এতটা উত্তেজিত হওয়া কোনোমতেই কাম্য ছিল না। আমরা চাই, টোল আদায় নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের যুক্তিসংগত মীমাংসা করা হোক এবং হতাহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

SHARE