ভোট গ্রহণ শেষ, অপেক্ষা নতুন নগরপিতার

27

অনলাইন ডেস্ক : শেষ হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশের ভোটগ্রহণ। শনিবার সকাল ৮টা শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মেয়র, কাউন্সিল ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি পদে ভোট দিয়েছেন ভোটারেরা।

এবার ঢাকার দুই সিটিতেই ইভিএম মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে কম সময়েই ঘোষণা করা যাবে ফল।কেন্দ্রগুলোর বাইরে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ফলের জন্য অপেক্ষা করছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার জন্য কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে কেন্দ্রভিত্তিক ফল দ্রুত চলে আসবে। এ থেকেই প্রার্থীরা বুঝতে পারেন কার জয় হলো আর কার পরাজয়।

এর আগে সারাদিন অনুষ্ঠিত ভোটে প্রায় সবকেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। রাজধানীর রামপুরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটার উপস্থিতি খুবই নগণ্য। হাতেগোনা দুয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া কোথাও ভোটারদের লাইন ছিল না। দু’য়েকজন ভোটার এসে ভোট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রগুলোর বাইরে প্রার্থীদের কর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটার নেই বললেই চলে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রামপুরা উলন, ওয়াপদা রোড ও মহানগর আবাসিক এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা। অদূরে এক মেয়র প্রার্থীর কয়েকজন কর্মী ভোটার স্লিপ নিয়ে বসে আছেন। কিন্তু কোনো ভোটার নেই।

মগবাজারে শের-ই-বাংলা স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে কোনও ভোটার চোখে পড়েনি। ভোটার না থাকায় বারান্দায় রোদ পোহাতে দেখা যায় পোলিং কর্মকর্তাদের। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রেও সকাল থেকে ভোটারের কোনো লাইন দেখা যায়নি।

উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকার ৭টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, এসব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম।

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ক্যাম্পের সামনেও খুব বেশি লোকজন নেই। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কিছু লোকজন দেখা যায়। এ কেন্দ্রে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে ছাড়া কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি।

এদিকে গেন্ডারিয়া হাইস্কুলের সামনে দুই কমিশনারের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্রের বাইরে চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের জেরে ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল। নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় দু’জন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আমাদের কাছে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আসেনি। বিএনপির লোকজন কিছু কিছু জায়গায় বানোয়াট মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। তারা ঠিকই ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়ে আসছে তারপরও তারা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। এটা তো তাদের একটি রাজনৈতিক কৌশল।

ভোটার সংখ্যা:

দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮জন ও নারী ভোটার ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯জন। সিটি করপোরেশন হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে মোট ভোটার রয়েছেন ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩জন; যার মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭জন ও নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬জন। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪জন; যার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১জন ও নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩জন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের নির্বাচনের সময় দুই সিটিতে ভোটার ছিল ৪২ লাখ ১৬ হাজার ১২৭জন। পাঁচ বছরে ভোটার বেড়েছে ১২লাখ ৪৭ হাজার ৩৪০ জন।

ভোটকেন্দ্র:

ঢাকার দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্র ও ১৪ হাজার ৪৪৫টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষ এবং দক্ষিণ সিটিতে ১ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৬৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং দক্ষিণে ৬৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

SHARE